হামের প্রকোপে কাঁপছে দেশ, আইসিইউ সংকটে বিপন্ন শিশুদের জীবন
সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যার ফলে গত এক মাসে ১৮৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রাজধানীর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল ও মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে তিল ধারণের জায়গা নেই। আক্রান্ত শিশুদের শরীরে লাল র্যাশ, তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা সাত মাসের শিশু ইউসুব নিউমোনিয়ার চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালেই হামে আক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু জরুরি আইসিইউ প্রয়োজন হলেও কোনো শয্যা খালি না থাকায় দিশেহারা তার পরিবার।
হাসপাতালগুলোর প্রতিটি ওয়ার্ড এখন শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে। আইসিইউ-র সামনে স্বজনদের হাহাকার বাড়ছে, কারণ একটি বেডের বিপরীতে অনেক রোগীর সিরিয়াল রয়েছে। অনেকের অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন যে স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করতে না পারায় নাকের নল দিয়ে তরল খাবার দিতে হচ্ছে। ১০০ শয্যার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে হামের জন্য নির্ধারিত বেডের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী আসায় মেঝেতেও চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যার পরেই রয়েছে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে ৩০ জন এবং সন্দেহভাজন হিসেবে আরও ১৫৬ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার টিকাদানের বয়সসীমা কমিয়ে ৯ মাসের পরিবর্তে ৬ মাসে নামিয়ে এনেছে। ৫ এপ্রিল থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে যা দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন ও উপজেলাগুলোতে পর্যায়ক্রমে চলবে।
আগামী ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১ কোটি ৭৮ লাখ ৪০ হাজার শিশুকে বিশেষ টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৯৫ শতাংশ শিশুকে সুরক্ষিত করার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি অভিভাবকদের চরম উদ্বেগের মুখে ঠেলে দিয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, শ্বাসকষ্ট তীব্র হলে মুখে খাবার দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ, তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও বিশেষ সতর্কতা জরুরি।



















