হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি, নির্দেশনা না মানলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার ঘোষণা
ইরানের সামরিক কমান্ডের অনুমোদিত পথ ছাড়া অন্য কোনো রুটে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজকে ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে শান্তি চুক্তির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার জানানোর পরপরই ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর থেকে এই কড়া বার্তা এলো।
দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সামরিক কমান্ড স্পষ্ট করেছে যে, হরমুজ প্রণালিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া বা নৌ চলাচলের প্রোটোকল অমান্য করার যেকোনো ঘটনার বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক ও কঠোর ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে এই নির্দেশনা অমান্যকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) উদ্যোগে আয়োজিত এক নিরাপত্তা সংলাপে আঞ্চলিক নেতাদের অবাধ বাণিজ্য প্রবাহ নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই হুঁশিয়ারি দিল ইরান।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি মার্কিন সেন্টকমের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ছত্রছায়ায় এই অঞ্চলের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন পারস্য উপসাগরীয় এলাকা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নেওয়া। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর আগে এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো, যা বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনায় একটি প্রধান প্রতিবন্ধকতায় পরিণত হয়েছে।
যদিও গত ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর থেকে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল কিছুটা বেড়েছে, তবে তা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখনও অনেক কম। মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রণালিটিতে অন্তত ৮৯টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এসবের বেশিরভাগের জন্যই তেহরানকে দায়ী করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উপকূলের কাছাকাছি নির্ধারিত পথ ব্যবহার না করা জাহাজগুলোর ওপর হামলার ঝুঁকি এড়াতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ইরান।



















