শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬| সন্ধ্যা ৬:৪৫

হংকং ইস্যুতে চীনের পাল্টা নিষেধাজ্ঞা: মার্কিন এমপি, কর্মকর্তা ও এনজিও প্রধানরা তালিকায়

প্রতিবেদক
staffreporter
এপ্রিল ২২, ২০২৫ ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
হংকং ইস্যুতে চীনের পাল্টা নিষেধাজ্ঞা: মার্কিন এমপি, কর্মকর্তা ও এনজিও প্রধানরা তালিকায়

হংকং ইস্যুতে চীনের পাল্টা নিষেধাজ্ঞা: মার্কিন এমপি, কর্মকর্তা ও এনজিও প্রধানরা তালিকায়

চীন হংকং ইস্যুতে ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’র অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা, সরকারি কর্মকর্তা এবং এনজিও প্রধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সোমবার (২১ এপ্রিল) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ওয়াশিংটন গত মাসে ছয়জন চীনা ও হংকং কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

গুয়ো জিয়াকুন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা বা তাদের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেননি। ফলে কতজন আইনপ্রণেতা, কর্মকর্তা বা এনজিও প্রধান এই তালিকায় রয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী পদক্ষেপের জবাবে দেওয়া হয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “হংকং সম্পর্কিত ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ভুল পদক্ষেপের জবাবে চীন সবসময় এমন দৃঢ় ও পাল্টা পদক্ষেপ নেবে।”

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক গত কয়েক বছর ধরে ক্রমশ তিক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে তাইওয়ান, হংকং এবং অর্থনৈতিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। বেইজিংয়ের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান ও হংকংয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিতভাবে হস্তক্ষেপ করছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের দাবি, চীন এই অঞ্চলগুলোতে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে এবং স্বাধীনতা হরণের নীতি গ্রহণ করেছে।

বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রতি সবসময় কঠোর মনোভাব পোষণ করেছেন। ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, চীনের একটি গবেষণাগার থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে। যদিও পরবর্তী তদন্তে এই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। এছাড়া, ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছেন। জবাবে চীনও মার্কিন পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে। এই বাণিজ্য যুদ্ধ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্প্রতি বিশ্বের সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, কোনো দেশ যেন চীনের স্বার্থকে উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না করে। এই বক্তব্য চীনের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।

হংকং ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে চলছে部分

System: চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হংকংয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতার দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে, যা চীন সরকারের কঠোর জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের দিকে নিয়ে গেছে। এই আইনের সমালোচকরা বলছেন, এটি হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতাকে সীমিত করছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো এই আইনের নিন্দা করেছে এবং চীনা কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

চীনের এই পাল্টা নিষেধাজ্ঞা কেবল রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াই নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রতিফলন। এটি বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে সম্পর্কের অবনতি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আগামী দিনগুলোতে এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে এগোয়, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

সূত্র: রয়টার্স

মন্তব্য করুন
Spread the love

সর্বশেষ - রাজনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত

আজকের খেলা (২১ ডিসেম্বর, ২০২৪)

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি এক লাখ ছাড়ানোর আশঙ্কা ইউএসজিএসের

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি এক লাখ ছাড়ানোর আশঙ্কা ইউএসজিএসের

সিরিয়ার দামেস্কে চার্চে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ২২ নিহত

সিরিয়ার দামেস্কে চার্চে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ২২ নিহত

অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের প্রাধান্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আফগান স্কোয়াড ঘোষণা

অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের প্রাধান্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আফগান স্কোয়াড ঘোষণা

অসহযোগ আন্দোলনের ডাক ইমরান খানের

মিয়া গোলাম পরওয়ারের পাঁচটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

মিয়া গোলাম পরওয়ারের পাঁচটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোডাক্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ

ওয়ালটনে ৫০ জন সার্ভিস এক্সপার্ট নিয়োগ, আবেদন ১০ জুন পর্যন্ত

নির্বাচনের সময় নিয়ে বিএনপির অবস্থান পরিবর্তন, ফেব্রুয়ারির প্রস্তাবে একমত প্রধান উপদেষ্টা

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের বৈঠক উপলক্ষে লন্ডনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর আগমন

সকালে ঘুম থেকে উঠে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা? জেনে নিন প্রাকৃতিক কিছু সহজ সমাধান

সকালে ঘুম থেকে উঠে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা? জেনে নিন প্রাকৃতিক কিছু সহজ সমাধান

অর্থনীতির সংকট কাটিয়ে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট: বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ গত বছরের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এক বছর পূর্ণ করতে চললেও দেশের অর্থনীতি এখনও স্থবিরতার মধ্যেই রয়েছে। মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থান সংকট, রফতানি হ্রাস ও রাজস্ব ঘাটতির মতো বহু সমস্যা সামনে রেখে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। বাজেট প্রস্তুতের আগে অর্থ মন্ত্রণালয় যে আটটি প্রধান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে, তার মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানো, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং এলডিসি উত্তরণে প্রস্তুতি। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একইসঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনাও থাকছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে কেবল সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ না থাকায় দেশের শিল্প খাতেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানিতে এলসি খোলার হার ৩০ শতাংশ কমেছে। শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ নেমে এসেছে ৪৮.৪১ শতাংশে এবং দেশে বর্তমানে বেকার সংখ্যা ২৭ লাখ ৩০ হাজার, যা এক বছরে বেড়েছে সোয়া তিন লাখ। বিদেশে কর্মী পাঠানোর হারও ২২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে আশার কথা হলো—রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে এবং মার্চ ও এপ্রিল মাসে তা রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে। এদিকে বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে এনবিআরের লক্ষ্য ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে এনবিআর মাত্র ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পেরেছে, ফলে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সরকার নতুন খাতে কর আরোপ এবং কর ব্যবস্থার অটোমেশন চালুর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সরকারি ঋণের পরিমাণ এরইমধ্যে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। নতুন বাজেট বাস্তবায়নে আরও ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে সুদ পরিশোধেই ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। তবে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমিয়ে বাজেট ঘাটতি সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চাভিলাষী এই বাজেট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, বাজেটের আকার আরও ছোট ও বাস্তবসম্মত হলে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হতো। সিপিডির মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, বাজেটের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বৈদেশিক বাণিজ্যেও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক, ভারতের পণ্যে নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতায় রফতানি কমেছে। আখাউড়া স্থলবন্দরের মতো সীমান্ত বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর কার্যকারিতা কমে গেছে। এছাড়া, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং চাঁদাবাজি ও সাইবার হুমকির কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমন অবস্থায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বিনিয়োগ সুরক্ষায় ‘ফাস্ট-ট্র্যাক অভিযোগ নিষ্পত্তি’ এবং ‘ই-কমার্স নিরাপত্তা ইউনিট’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। এই সব বাস্তবতায় সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরি ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন, যার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে গতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পরিবর্তিত সময়সূচিতে ৪৬তম বিসিএস লিখিত ও ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে