সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক সামরিক চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাল ইরান
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ত্রিদেশীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরান মনে করছে, গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের একটি সুস্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এর বরাত দিয়ে সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই মন্তব্য করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন উপলব্ধি করতে পারছে যে নিরাপত্তা কোনো ক্রয়যোগ্য পণ্য নয় বা বাইরের কোনো মধ্যস্থতাকারীর কাছ থেকে তা কেনা যায় না। এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি তেহরানকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে এমন উদ্বেগের কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আঞ্চলিক বাস্তবতাভিত্তিক যেকোনো পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনবে এবং শত্রুপক্ষের অপব্যবহার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে।
এর আগে শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঐতিহাসিকভাবে ‘মক্কা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা জোটভুক্ত বাকি সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষার এই নীতির তুলনা করে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, এটি কেবল আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা। নির্দিষ্ট কোনো দেশকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি, এবং আক্রমণের শিকার রাষ্ট্র সহায়তা চাইলে প্রয়োজন অনুযায়ী গোয়েন্দা তথ্য, সামরিক রসদ বা সৈন্য পাঠিয়ে সহযোগিতা করা হবে।


















