সৌদি আরব ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিচ্ছে তুরস্ক
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যকার কৌশলগত নিরাপত্তা জোটে তৃতীয় দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে তুরস্ক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ সংক্রান্ত আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আলোচনা সম্পন্ন হলেই তুরস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেবে।
২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচ্যুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ (এসডিএমএ) স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল শর্ত হলো, স্বাক্ষরকারী কোনো দেশ যদি বহিঃশক্তির আক্রমণের শিকার হয়, তবে অন্য দেশ সর্বাত্মকভাবে তার পাশে দাঁড়াবে। এই জোটের অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র ও দেশটির বিশাল সেনাবাহিনী। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই জোটকে অনেকটা ন্যাটোর আদলে গড়া একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তুরস্কের বর্তমান সরকারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। এমন পরিস্থিতিতে তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সাথে এই সামরিক জোটে যুক্ত হওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আঙ্কারার এই অন্তর্ভুক্তি এই অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্য রক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
এসডিএমএ জোটে তুরস্কের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে গত অক্টোবর থেকে তিন দেশের মধ্যে নিবিড় আলাপ-আলোচনা চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে মুসলিম বিশ্বের তিনটি শক্তিশালী সামরিক শক্তি এক কাতারে আসবে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


















