সৌদি আরবের রমজান ঘোষণা ও চাঁদ দেখা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক
সৌদি আরবের দাপ্তরিক হিজরি ক্যালেন্ডার ‘উম্ম আল-কুরা’ অনুযায়ী আগামী বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি রমজানের প্রথম দিন নির্ধারিত হয়েছে। তবে প্রতিবেশী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিদরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই বৈপরীত্যের কারণে গত কয়েক বছরের মতো এবারও সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ঘোষণা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদ দেখা নিয়ে সঠিক তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণের সময় জ্যোতির্বিদরা বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে ভিন্ন মত দিলেও, সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী উৎসবের ঘোষণা দেয়। ওই সময় কুয়েতের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদরা চাঁদ দেখার প্রমাণ হিসেবে ছবি দাবি করলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো স্বচ্ছ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
সাধারণত মুসলিম বিশ্ব চন্দ্রবর্ষ অনুসরণ করে যেখানে মাস ২৯ বা ৩০ দিনে সম্পন্ন হয়। বিশ্বের অনেক দেশ নিজেদের আকাশে চাঁদ দেখে সিদ্ধান্ত নিলেও যুক্তরাজ্যসহ বেশ কিছু দেশ ঐতিহাসিকভাবে সৌদির ঘোষণা অনুসরণ করে আসছে। তবে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, সৌদি আরব প্রায়ই বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব সময়েও চাঁদ দেখার দাবি করে, যা মূলত তাদের পূর্বনির্ধারিত ক্যালেন্ডারের সাথে মিলিয়ে করা হয়।
তুরস্কের মতো দেশগুলোও হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে রমজান বা ঈদের দিন নির্ধারণ করে, তবে তারা বিষয়টি আগেভাগেই স্বচ্ছতার সাথে ঘোষণা করে। অন্যদিকে সৌদি আরব চাঁদ দেখার দাবি করলেও তার সপক্ষে জোরালো প্রমাণ না থাকায় এবং সিসিডি ক্যামেরায় তোলা ঝাপসা ছবি প্রকাশের কারণে ইসলামী বর্ষপঞ্জিকা বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে এই বিভ্রান্তি ও বিতর্ক প্রতি বছরই জোরালো হচ্ছে।



















