সীমান্তে ফোনের তথ্য মুছে ফেলায় মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরে সীমান্ত পার হওয়ার সময় নিজের মুঠোফোনের সব তথ্য মুছে ফেলায় এক মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির সরকার। তদন্তকারীদের দাবি, ফোন জবরদখল ও তল্লাশির সময় স্যাম টিউনিক নামের ওই ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে একটি বিশেষ গোপন সংকেত প্রবেশ করান, যার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তার ফোনের সব তথ্য মুছে যায়। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষের জব্দ করার আগেই তথ্য নষ্ট করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিরল একটি আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আটলান্টার একটি বিমানবন্দরে স্যাম টিউনিককে আটক করেন ডোর অফিসাররা। তাকে শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলা হলেও তার আইনজীবীদের দাবি, মূল উদ্দেশ্য ছিল তার সামাজিক আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা। অভিযোগে বলা হয়, তিনি একটি বিশেষ অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক গ্রাফিন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন সংকেত দেন যা ফোন রিাসেট করে ফেলে।
অন্যদিকে টিউনিকের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন যে, বিমানবন্দরে তাকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছিল এবং কোনো পরোয়ানা ছাড়া বা আইনি পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ না দিয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, টিউনিকের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় সে সময় কোনো পরোয়ানা দেখানোর প্রয়োজন ছিল না।
এই ঘটনার পর মানবাধিকারকর্মীরা ভ্রমণকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, পরোয়ানা ছাড়া অযৌক্তিক তল্লাশি থেকে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য রক্ষা করা মৌলিক অধিকারের অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সীমান্তে ভ্রমণকারীদের ফোন ও ডিজিটাল তথ্য যাচাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে সুরক্ষার বিতর্ক উসকে উঠেছে।



















