সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত পাকিস্তান
ভারত যদি পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান অব্যাহত রাখে, তবে প্রয়োজনে দেশটির সঙ্গে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত আছে পাকিস্তান। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পানি পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যে মুহূর্ত থেকে তারা বোধ করবেন যে তাদের পানির নিরাপত্তা গুরুতর হুমকির মুখে, সেই মুহূর্তেই তারা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবেন।
অবশ্য সাক্ষাৎকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ-ও উল্লেখ করেছেন যে, সিন্ধু নদে পানি সরবরাহ ব্যাহত করতে ভারত উদ্বেগজনক গতিতে কোনো তৎপরতা চালাচ্ছে—এমন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলেই কেবল ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। হিমালয়ের কৈলাস পর্বতের বোখার-চু হিমবাহ থেকে উৎপত্তির পর ভারত ও পাকিস্তানের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আরব সাগরে মিশেছে এশিয়ার অন্যতম দীর্ঘতম এই নদ। এই নদ এবং এর ছয়টি উপনদীর পানির ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর এই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে তীব্র বিরোধ চলে আসছে।
এই দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে ১৯৬০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ঐতিহাসিক ‘ইন্ডাস ওয়াটার ট্রিটি’ বা সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির শর্ত অনুসারে, সিন্ধু অববাহিকার পূর্বাঞ্চলীয় তিন নদী—ইরাবতী, বিপাশা ও শতদ্রুর পানি ব্যবহার করার একচ্ছত্র অনুমতি দেওয়া হয় ভারতকে। অন্যদিকে, পাকিস্তানকে পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি নদ-নদী—সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাবের অধিকাংশ পানি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এই চুক্তিটি কোনো দেশই একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করার আইনি বিধান নেই।
তবে গত ২০২৫ সালে ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগাঁও অঞ্চলে ভারতীয় পর্যটকদের লক্ষ্য করে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার পর এই পানিবণ্টন চুক্তিটি স্থগিত করে ভারত। নয়াদিল্লি এখনও সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না করায় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই স্থগিতাদেশের ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান এখন নিজেদের পানির নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে যাওয়ার এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের চূড়ান্ত বার্তা দিল।



















