সামরিক আইন জারিতে সমর্থনের দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক বিচারমন্ত্রীর ২৫ বছরের কারাদণ্ড
সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইয়োলের সামরিক আইন জারিকে সমর্থন করার অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন বিচারমন্ত্রী পার্ক সুং-জায়ে-কে ২৫ বছর কারাবাসের সাজা দিয়েছেন দেশটির আদালত। আজ সোমবার রাজধানী সিউলের কেন্দ্রীয় জেলা আদালত এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইয়োনহাপ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পার্ক সুং-জায়ের বিরুদ্ধে সংবিধান বহির্ভূত পদক্ষেপে যোগসাজশ, বিদ্রোহ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই সিদ্ধান্ত নেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর রাতে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই দেশজুড়ে জরুরি সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইউন। পার্কের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ছিল, প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার আগেই তিনি মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন। সেখানে সামরিক আইন জারির পর দেশজুড়ে তৈরি হতে যাওয়া সম্ভাব্য হট্টগোল ও অসন্তোষ কঠোরভাবে দমনে প্রস্তুত থাকার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইয়োলের সেই সামরিক আইন ঘোষণার পর দক্ষিণ কোরিয়ায় এক অভূতপূর্ব ও চরম রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সরকারি ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা রাতেই পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন তলব করে সর্বসম্মতভাবে প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেন। একই সাথে দেশের শেয়ারবাজারে আকস্মিক ধস নামে এবং দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। তীব্র প্রতিবাদের মুখে সামরিক আইন জারির মাত্র ৬ ঘণ্টার মাথায় অর্থাৎ ৪ ডিসেম্বর ভোরে প্রেসিডেন্ট ইউন তা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও উঠে এসেছে যে, নিজেদের জারি করা সামরিক আইনকে জনগণের সামনে ন্যায্যতা দিতে উত্তর কোরিয়াকে উসকানি দেওয়ার একটি গোপন পরিকল্পনা ছিল প্রেসিডেন্ট ইউনের। এমনকি তিনি উত্তর কোরিয়ায় সামরিক ড্রোন নিক্ষেপ করতে চেয়েছিলেন এবং এই পুরো পরিকল্পনায় তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে কাজ করেছিলেন সাবেক বিচারমন্ত্রী পার্ক সুং-জায়ে। উল্লেখ্য, এর মাত্র কয়েক দিন আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইলোকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির সাংবিধানিক আদালত।

















