সরকারি হাসপাতালে দালালি ও স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম রুখতে কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা
সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে টেস্ট বাণিজ্য, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা, টেন্ডার অনিয়ম ও অযৌক্তিক সিজারিয়ান অপারেশনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার সকালে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক এক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে পাশের ক্লিনিকে রোগী পাঠানো কিংবা কমিশনের বিনিময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো আর চলতে দেওয়া হবে না। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটা ও টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। ডায়ালাইসিস সেবায় বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি মেডিকেল কলেজে ৫০ শয্যা এবং জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার কেন্দ্র স্থাপন করবে।
স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আগামী তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে এআই সমৃদ্ধ কিট বক্স নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রোগীদের ভয় দেখিয়ে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধে সিভিল সার্জন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে সারাদেশে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে আকস্মিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত গবেষণায় দেখা যায়, দেশের সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বাজেট বাস্তবায়নের হার ৮৫ শতাংশ। অব্যয়িত অর্থের মূল কারণ হিসেবে আর্থিক দুর্নীতির চেয়ে বাজেট ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রশাসনিক জটিলতাকে দায়ী করা হয়েছে।



















