সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষক পদ বাতিল
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুনভাবে সৃষ্টি করা সংগীত এবং শরীরচর্চা বিষয়ক সহকারী শিক্ষক পদ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে বাতিল করা হয়েছে। এই দুটি পদ বাতিলের পাশাপাশি ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫’-এ কিছু শব্দগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত আগস্টে জারি করা বিধিমালাটি সংশোধন করে মন্ত্রণালয় রোববার সংশোধনের গেজেট প্রকাশ করেছে।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাসুদ আকতার খান জানিয়েছেন, আগের বিধিমালায় ৪ ক্যাটাগরির পদ থাকলেও সংশোধিত বিধিমালায় দুটি ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে। সংগীত ও শরীরচর্চা বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের পদটি নতুন বিধিমালায় বাদ দেওয়া হয়েছে এবং কিছু শব্দগত পরিবর্তন করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, আগের বিধিমালায় মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া পদগুলোর মধ্যে ২০ শতাংশ পদ বিজ্ঞান বিষয়ের স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং বাকি ৮০ শতাংশ পদ অন্যান্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য হলেও, প্রকৃতপক্ষে ওই ৮০ শতাংশ পদে বিজ্ঞান বা অন্যান্য বিষয়ে যেকোনো স্নাতক নিয়োগ পেতে পারতেন।
চলতি বছরের ২৮ আগস্ট নতুন বিধিমালা জারি করা হয়েছিল, যেখানে সংগীত ও শরীরচর্চা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদ নতুনভাবে সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর থেকে ইসলামী দল ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো এই পদ সৃষ্টির সমালোচনা শুরু করে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম ১৬ সেপ্টেম্বর সংগীত বিষয়ক সহকারী শিক্ষক পদ সৃষ্টির সমালোচনা করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান। একই দিনে বিভিন্ন ইসলামী দল ও খেলাফত আন্দোলনের নেতারা এক সেমিনারে পদটির কঠোর সমালোচনা করেন।
এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর হেফাজতে ইসলাম প্রাথমিক স্তরে সংগীত শিক্ষক নিয়োগকে ‘ইসলামবিরোধী এজেন্ডা’ আখ্যা দিয়ে বিধিমালা বাতিলের দাবি জানিয়েছিল। জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ইসলামী দলও সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সংগীত শিক্ষকের পদ বাতিলের দাবি জানিয়েছিল।

















