শিক্ষাখাতে বাজেট কাটছাঁটের প্রতিবাদে ফ্রান্সে হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সহিংস সংঘর্ষ
শিক্ষা উপকরণ, নিরাপদ পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ এবং বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ চরম সহিংস রূপ ধারণ করেছে। দেশজুড়ে দাঙ্গা পুলিশের সাথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ভুত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে ফ্রান্সের প্রায় চারশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার সহিংসতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
ফ্রান্সের সার্সবার্গে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে, যার ফলে পুরো এলাকা কাঁদানে গ্যাসে ছেয়ে যায়। অন্যদিকে মার্সেইতে শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে আতশবাজি ও ফায়ারওয়ার্কস ছোড়ে এবং রেঁসে একটি ময়লার গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রাজধানী প্যারিসেও থমথমে পরিবেশের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভ ও ক্ষোভ প্রদর্শন চলছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ার প্রাক্কালে বাজেটে কাটছাঁট করায় ম্যাক্রোঁ সরকারের জনপ্রিয়তায় চরম ধস নেমেছে।
শিক্ষার্থীদের প্রধান অভিযোগ হলো, সরকারি অর্থায়নের অভাবে অনেক শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত বেঞ্চ বা বসার জায়গাও নেই এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বহুগুণ বেশি। গত সপ্তাহে শুরু হওয়া এই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করার পর প্রায় দুই হাজার তরুণ-তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তারকৃতদের অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন, এবং শিক্ষামন্ত্রী এডোয়ার্ড জেফরে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ঘরের বাইরে না পাঠানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।



















