শান্তি আলোচনার ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ ট্রাম্প ও জেলেনস্কি: পুতিনের সঙ্গেও ফোনালাপ
ইউক্রেনে প্রায় চার বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধাবসানের লক্ষ্যে পরিচালিত কূটনৈতিক তৎপরতা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার পাম বিচে ট্রাম্পের মার-এ-লাগো প্রাসাদে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প জানান, শান্তিচুক্তির খসড়া প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, তবে দনবাস অঞ্চলসহ কিছু ভূখণ্ডগত জটিলতা এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, “আমি বিশ্বাস করি আমরা শান্তি সংলাপের একেবারে শেষ ধাপে আছি। আমাদের এখন অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে, কারণ একটু ভুল হলে বিষয়টি আবারও দীর্ঘ সময়ের জন্য ঝুলে যেতে পারে।” অন্যদিকে জেলেনস্কি এই আলোচনাকে ‘চমৎকার’ ও ‘ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, যুদ্ধের পর ইউক্রেনের জন্য মার্কিন ও ইউরোপীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়ে রবিবারের বৈঠকে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। খসড়া শান্তি পরিকল্পনার ২০টি দফার মধ্যে ১৮টি (প্রায় ৯০ শতাংশ) বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হতে পেরেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
জেলেনস্কির সঙ্গে বসার ঠিক আগেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা টেলিফোনে কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এই ফোনালাপকে অত্যন্ত কার্যকর বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “পুতিনও যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং দুই পক্ষই শান্তি চায়।” উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্টের শপথ নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প এই যুদ্ধ বন্ধে ব্যাপক কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে আসছেন।
শান্তি আলোচনার প্রধান অন্তরায় হিসেবে এখনো দাঁড়িয়ে আছে ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার বিষয়টি। রাশিয়া ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক এবং ঝাপোরিজ্জিয়া প্রদেশের দখলকৃত অংশগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে। অন্যদিকে ইউক্রেন তাদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার দাবিতে অনড় থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে সমঝোতার ইঙ্গিত মিলছে। আগামী সপ্তাহে যুদ্ধাবসানের বাকি অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে পুনরায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।


















