শহুরে জীবনে অ্যালার্জির বাড়বাড়ন্ত, বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
গত কয়েক দশকে শহরাঞ্চলে অ্যালার্জি রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও নাক বন্ধ বা সর্দি, হাঁপানি, ত্বকে চুলকানি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের খাদ্য অ্যালার্জির প্রবণতা এখন বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক নগরজীবনের ধরন, পরিবেশ দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন—এই তিনটি কারণ একসঙ্গে কাজ করে সমস্যাটিকে তীব্র করছে।
শহরের রাস্তায় যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন, ধুলোবালি ও বাতাসে ভাসমান পলিন শ্বাসনালিতে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়ায়। ঘরের ভেতরেও ধুলো, পোকামাকড়, নরম খেলনা, ভারী পর্দা কিংবা সুগন্ধি দ্রব্য শ্বাসনালিকে সংবেদনশীল করে তোলে। অনেকেই দীর্ঘ সময় ঘরে অবস্থান করেন এবং এয়ার কন্ডিশনার বা ফ্যান ব্যবহার করেন, ফলে অ্যালার্জেন জমে থেকে সমস্যা আরও বাড়ে।
এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা ও বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে উদ্ভিদ বেশি পলিন উৎপাদন করছে। পলিনের মৌসুম দীর্ঘ হওয়ায় নাক, চোখ ও ফুসফুসে অ্যালার্জির উপসর্গ দীর্ঘদিন স্থায়ী হচ্ছে। শহরে গাছপালার ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
আধুনিক খাদ্যাভ্যাসও অ্যালার্জি বৃদ্ধির একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, বেশি চিনি ও কম আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে খাদ্যজনিত অ্যালার্জি বাড়ছে। শিশুদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট খাবার দেরিতে পরিচয় করানোর প্রবণতাও অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, পরিচিত অ্যালার্জেন যেমন ধুলো, পলিন, পশুর লোম বা নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। ঘর ধুলোমুক্ত রাখা, বিছানাপত্র নিয়মিত গরম পানিতে ধোয়া, বেশি দূষিত বা পলিনের দিনে মাস্ক ব্যবহার এবং ঘরের সঠিক বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগও অপরিহার্য। শহরের বায়ুমান উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি, খোলা জায়গা সংরক্ষণ এবং শিল্প দূষণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অ্যালার্জির প্রকোপ কমানো সম্ভব। তথ্যসূত্র: Oneindia।


















