লেবাননে হামলা নিয়ে ইসরায়েল ও পাকিস্তানের মধ্যে বাগযুদ্ধ, খাজা আসিফের মন্তব্যকে ‘ভয়ানক’ বললেন নেতানিয়াহু
লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিধ্বংসী বিমান হামলার নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং এক হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে খাজা আসিফ ইসরায়েলকে ‘মানবতার অভিশাপ’ এবং ‘ক্যান্সার রাষ্ট্র’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি তার পোস্টে ফিলিস্তিন, ইরান ও লেবাননে চলমান রক্তপাতের জন্য তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে নেপথ্য কুশলীদের কঠোর সমালোচনা করেন।
খাজা আসিফের এই বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ‘ভয়ানক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। নেতানিয়াহু বলেন, যে দেশ নিজেকে শান্তির জন্য ‘নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে দাবি করে, তাদের সরকারের কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং ইসরায়েলকে ধ্বংস করার ডাক দেওয়া কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
পাল্টা আক্রমণে যোগ দিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সা’র-ও। তিনি এক এক্সপোস্টে খাজা আসিফের বক্তব্যকে ‘নির্লজ্জ ইহুদি-বিদ্বেষী রক্ত-অপবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সা’র স্পষ্টভাবে জানান যে, যারা ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ধ্বংসের আহ্বান জানায়, তাদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে ইসরায়েল সবসময় প্রস্তুত। মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তানের এমন অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে তেল আবিব।
মূলত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতি সংলাপে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার মধ্যেই এই কূটনৈতিক সংঘাত নতুন মাত্রা যোগ করল। খাজা আসিফের প্রার্থনা ছিল যে, যারা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল সৃষ্টি করেছিল, তাদের যেন ‘নরকের আগুন’ গ্রাস করে। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে এখন পাকিস্তান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্ক এবং শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।



















