লন্ডনে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ২৬ পুলিশ আহত
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে টমি রবিনসনের নেতৃত্বে অভিবাসনবিরোধী বিশাল বিক্ষোভে এক লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন। একই সময়ে পাল্টা সমাবেশে যোগ দেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ। এই দুই সমাবেশকে আলাদা রাখতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হলেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার ফলে অন্তত ২৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, চারজনের অবস্থা গুরুতর।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার লন্ডনের কেন্দ্রীয় এলাকায় অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ “ইউনাইট দ্য কিংডম” শিরোনামে অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা ব্রিটেন ও ইংল্যান্ডের পতাকা হাতে স্লোগান দেন, এছাড়া আমেরিকান ও ইসরায়েলি পতাকা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের “মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন” টুপি পরে আসে। তারা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং “সেন্ড দেম হোম” লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করে।
টমি রবিনসন বলেন, “আজ ব্রিটেনে এক সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা হলো। এটি আমাদের মুহূর্ত। দেশপ্রেমের জলোচ্ছ্বাস এই বিক্ষোভ।” তিনি আসল নাম স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন এবং নিজেকে “রাষ্ট্রীয় অন্যায় উন্মোচনকারী সাংবাদিক” হিসেবে পরিচয় দেন। রিফর্ম ইউকের সঙ্গে তার সম্পর্ক সীমিত থাকলেও জনমত জরিপে তাকে সমর্থন রয়েছে।
পাল্টা সমাবেশ “স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম”-এ অংশ নেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ। তারা অভিবাসীদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি বিদ্বেষ ও বিভাজন রোধে মনোযোগী। শিক্ষিকা বেন হেচিন বলেন, “যত বেশি মানুষকে আমরা স্বাগত জানাবো, তত বেশি আমরা শক্তিশালী হবো।”
লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, দুই সমাবেশ ঘিরে প্রায় ১ হাজার ৬০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৫০০ সদস্যকে অন্য অঞ্চল থেকে আনা হয়। বিক্ষোভ ও পাল্টা সমাবেশ চলাকালে পুলিশকে লাঠি, বোতল, ফ্লেয়ারসহ বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপের মুখে পড়তে হয়। এখন পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে পুলিশ জানিয়েছে, এটি কেবল শুরু এবং আগামী দিনগুলোতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে এখন পর্যন্ত ২৮ হাজারের বেশি অভিবাসী ব্রিটেনে পৌঁছেছেন। রেকর্ডসংখ্যক আশ্রয় আবেদন এবং অভিবাসন ইস্যু দেশটির অর্থনীতি ও রাজনৈতিক এজেন্ডাকে প্রভাবিত করেছে।


















