রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তন না হলে আবারও অভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যেই হয়েছিল বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে প্রয়োজনীয় সংস্কার থেকে পিছিয়ে যায়, তবে জুলাইয়ের মতো আরেকটি অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি শুরু করা হবে। সোমবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিএল ভবনে ‘ভয়েস অব রিফর্ম’ আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শেখ হাসিনা কোনো একক ব্যক্তি নন, বরং তিনি অনেকগুলো ফ্যাসিবাদী আইডিয়ার সমষ্টি। যদি বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা বা সিস্টেম অক্ষুণ্ণ রাখা হয়, তবে যেকোনো ব্যক্তিই পরবর্তীতে পুনরায় ‘হাসিনা’ হয়ে উঠতে পারেন। তাই রাষ্ট্র সংস্কার এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মানুষ এমন একটি রাষ্ট্র চেয়েছিল যেখানে কাউকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে চিরতরে গায়েব করে দেওয়া হবে না।
মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশ কার্যকর না হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি যথাযথভাবে কার্যকর না হলে তদন্তের দায়ভার পুনরায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে চলে যাবে। এর ফলে জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশ কর্তৃক হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার পুলিশের হাতেই ন্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। গুম হওয়া পরিবারগুলোর যন্ত্রণার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংলাপে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী মানজুর-আল-মতিন বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ দ্রুত গৃহীত হলেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার আইনটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা সবাই সরকারকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার আহ্বান জানান।



















