রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিদেশ সফরের গোপন নিরাপত্তা ব্যবস্থা
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিদেশ সফরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বৃহস্পতিবার দু’দিনের সফরে ভারত পৌঁছান তিনি। সাধারণত নিরাপত্তার দায়িত্ব সফরকারী দেশের থাকে, তবে এই সফরে ক্রেমলিন অতিউন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পুতিনের সফরের সময় তাকে জনসমক্ষে খুব কম দেখা যায়, এবং প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত হয়।
পুতিনের নিরাপত্তা দেখভাল করে রাশিয়ার ফেডারেল প্রোটেকটিভ সার্ভিস (এফএসও)। বিদেশ সফরে তার চারপাশে অদৃশ্য একটি নিরাপত্তা জাল তৈরি করা হয়, যেখানে পরিবহন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। সাধারণ দেহরক্ষীরা কেবল এই ব্যবস্থার অল্প অংশ। তার ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা দেশের এলিট প্রেসিডেনশিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিস (এসবিপি) থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত, যারা কঠোর নির্বাচন প্রক্রিয়া, শারীরিক সক্ষমতা এবং মানসিক দৃঢ়তার মাধ্যমে নির্বাচিত হন।
পুতিনের জীবনযাপন অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত। তিনি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না, মাঝে মাঝে বিশেষ ট্রেনে ভ্রমণ করেন এবং তার নিরাপত্তা নেটওয়ার্কে স্নাইপার, ড্রোন অপারেটর, ইলেকট্রনিক ইন্টেলিজেন্স ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ থাকে। খাবারের নিরাপত্তা অত্যন্ত কঠোর; রান্নার সকল উপকরণ পরীক্ষা করা হয়, এবং দেহরক্ষীরা প্রথমে খাবার খেয়ে দেখে যাতে বিষক্রিয়ার কোনো ঝুঁকি না থাকে।
বিদেশ সফরের সময় তিনি বুলেটপ্রুফ অরাস সেনাট লিমুজিনে ভ্রমণ করেন, যা গ্রেনেড প্রতিরোধী ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পন্ন। বিমান হিসেবে ব্যবহার করেন ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ, যাকে ‘ফ্লাইং প্লুটন’ বলা হয়। এতে চিকিৎসাকেন্দ্র, জিম, কনফারেন্স রুম এবং পারমাণবিক হামলার অনুমোদন সরঞ্জাম থাকে।
সবচেয়ে অদ্ভুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হলো বর্জ্য স্যুটকেসের মাধ্যমে তার মল সংগ্রহ। বিদেশি শক্তি যাতে পুতিনের স্বাস্থ্য সম্পর্কে তথ্য পায় না, সেজন্য দেহরক্ষীরা বিশেষ ব্যাগে তার মল সংগ্রহ করে মস্কোতে পাঠায়। এই নিয়ম ১৯৯৯ সালে নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে চালু রয়েছে।
পুতিনের নিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার এই নিখুঁত ও গোপন ব্যবস্থার কারণে তিনি প্রায় সব বিদেশ সফরে জনসাধারণের চোখ থেকে দূরে থাকেন।


















