রমনা বটমূলে বোমা হামলার ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বিস্ফোরক মামলার বিচার
২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বোমা হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হলেও এখনো সব মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। সেই নৃশংস ঘটনায় ঘটনাস্থলে ৯ জন এবং পরে হাসপাতালে আরও একজনসহ মোট ১০ জন প্রাণ হারান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হলেও একই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনো আইনি মারপ্যাঁচে আটকে আছে। বর্তমানে মামলাটি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে রয়েছে।
হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছিল ঘটনার ১৩ বছর পর ২০১৪ সালে, যেখানে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে বিস্ফোরক মামলার বিচার প্রক্রিয়া ২০২২ সালে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করার পরও দীর্ঘ চার বছর ধরে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে ঝুলে আছে। গত ৩১ মার্চ আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির না করায় আদালত আগামী ৯ জুলাই পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসামিরা বিভিন্ন জেলার কারাগারে থাকায় তাদের একসাথে আদালতে উপস্থিত করা যাচ্ছে না, যা বিচার বিলম্বের অন্যতম কারণ।
ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী পহেলা বৈশাখের আগেই বিস্ফোরক মামলার রায় পাওয়া সম্ভব হবে। ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ইতোমধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রসিকিউটরদের মতে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিচার ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে গাফিলতি ছিল। যেহেতু হত্যা মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, তাই বিস্ফোরক মামলাতেও অপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজার ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষ অত্যন্ত আশাবাদী।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, কোনো চাক্ষুষ সাক্ষী না থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ধরে আসামিদের আটকে রাখা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া দীর্ঘ কারাবাস আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে তারা মনে করেন। বর্তমানে জেলহাজতে থাকা সাত আসামিসহ পলাতক ও জামিনপ্রাপ্ত মোট ১১ জন এই বিস্ফোরক মামলার আসামি হিসেবে বিচার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন।



















