যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমতে কমতে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। দীর্ঘ ১০৭ দিনের সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে, যা যুদ্ধপূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থার সমান।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক সংঘাতের সময় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছিল। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারও ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বড় ধাক্কা দেয়। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সবচেয়ে বড় লক্ষণ দেখা গেছে হরমুজ প্রণালিতে। যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সামুদ্রিক পথে দীর্ঘ অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এখন আবার নির্বিঘ্নে চলাচল শুরু করেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহব্যবস্থা দ্রুত গতি ফিরে পেয়েছে।
এদিকে বাজার বিশ্লেষক ও তেলশিল্পের পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তেলের দাম কমার এই প্রবণতা এখানেই থেমে থাকবে না। মধ্যপ্রাচ্যে যদি এই আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দুই পক্ষ একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তাহলে আগামী দিনগুলোতে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কমতে পারে। দীর্ঘদিনের অস্থিরতা শেষে তেলের দামের এই নাটকীয় পতনকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।


















