যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া নীতিতে বড় পরিবর্তন: ‘ভারত প্রথম’ নীতি থেকে সরে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে ওয়াশিংটন
গত মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীব্র যুদ্ধের পর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর নৈপুণ্যে মুগ্ধ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতিতে আমূল পরিবর্তন এনেছে। গত ২১ ডিসেম্বর (রোববার) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এখন তাদের ‘ভারত প্রথম’ (India First) নীতি থেকে সরে এসে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে। প্রতিবেদনে ২০২৫ সালকে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘বিপ্লবী পরিবর্তনের বছর’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন টাইমসের প্রতিবেদনের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- নীতিতে আমূল পরিবর্তন: দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের প্রধান কৌশলগত অংশীদার মনে করলেও, ২০২৫ সালের শেষে সেই অবস্থান বদলে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পাকিস্তানকে তার দক্ষিণ এশিয়া নীতির ‘প্রধান দণ্ড’ বা অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছেন।
- মে মাসের যুদ্ধের প্রভাব: গত এপ্রিলে কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর মে মাসে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ (Operation Sindoor) নামে পাকিস্তানে মিসাইল হামলা চালায়। জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা হামলা করলে দুই দেশের মধ্যে টানা চারদিন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এই যুদ্ধে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা, কৌশলগত লক্ষ্য এবং সক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তাদের বিস্মিত করে।
- আস্থার পরিবর্তন: ২০২৫ সালের শুরুতেও ওয়াশিংটন পাকিস্তানকে ‘অনির্ভরশীল মিত্র’ এবং কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন দেশ হিসেবে দেখত। কিন্তু বছরের শেষে এসে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান কৌশলগত মিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
- ট্রাম্পের মধ্যস্থতা ও প্রশংসা: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তার মধ্যস্থতার কারণেই দুই পারমাণবিক শক্তির মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধ থেমেছে এবং এতে কয়েক মিলিয়ন মানুষের জীবন বেঁচেছে। এছাড়া পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসীম মুনিরকে হোয়াইট হাউসে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত বৈঠকের মাধ্যমে এই নতুন সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
- আঞ্চলিক প্রভাব: বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে শুধু ভারতের প্রতিপক্ষ হিসেবেই নয়, বরং ইরান ও গাজা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি নির্ভরযোগ্য চ্যানেল এবং দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কারিগর হিসেবে দেখছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ইতিহাসে এত দ্রুত এবং নাটকীয় পরিবর্তনকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেছে সংবাদমাধ্যমটি। এই পরিবর্তনের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন



















