যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্সের অভিযানে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী আটক
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ‘ডেল্টা ফোর্স’। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প জানান, মার্কিন সেনাবাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর একটি যৌথ ও সফল অভিযানের মাধ্যমে মাদুরো দম্পতিকে আটক করে ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলার বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে একটি সংবাদ সম্মেলনও আহ্বান করেছেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, ডেল্টা ফোর্স—যা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর প্রধান সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট—এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরেই মাদক পাচার ও ‘নার্কো-টেররিজম’ (মাদক-সন্ত্রাসবাদ) এর অভিযোগ এনেছিল ওয়াশিংটন। ২০২০ সালে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ৫০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। এই অভিযানের আগে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) বাণিজ্যিক বিমানগুলোকে ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়, যা মূলত ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’-এর অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনাকে ‘ন্যাক্কারজনক সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর অবস্থান সম্পর্কে তাঁরা অন্ধকারে আছেন এবং অবিলম্বে তাঁদের ‘জীবিত থাকার প্রমাণ’ দাবি করেছেন। দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে তেল ও খনিজ সম্পদ দখলের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন সিনেটর মাইক লি জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে মাদুরো বর্তমানে মার্কিন হেফাজতে থাকায় ভেনেজুয়েলায় আর নতুন কোনো হামলা চালানো হবে না।


















