যুক্তরাজ্যে পতাকা বর্ণ বা সহিংসতার প্রতীক বানাতে দেওয়া হবে না: কেয়ার স্টারমার
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার বলেছেন, দেশের পতাকা কখনোই সহিংসতা, ভীতি বা বিভেদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের পতাকা দেশের বৈচিত্র্যের প্রতীক, তাই এটি এমন কোনো কাজে ব্যবহার করা হবে না যা মানুষের বর্ণ, পরিচয় বা সামাজিক ভেদাভেদকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, লন্ডনে গত শনিবার ডানপন্থি কর্মী টমি রবিনসনের আয়োজিত “ইউনাইট দ্য কিংডম” শীর্ষক মিছিলে ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পাল্টা কর্মসূচি “স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম”-এ প্রায় ৫ হাজার মানুষ অংশ নেন। এই পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভের পর স্টারমার তাঁর মন্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার রাখে। এটা আমাদের জাতীয় মূল্যবোধের অংশ। কিন্তু দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা কিংবা মানুষকে তাদের বর্ণ বা পরিচয়ের কারণে আতঙ্কিত করা মেনে নেওয়া হবে না। আমাদের পতাকা এই বৈচিত্র্যের প্রতীক, একে কখনোই সহিংসতা, ভয় বা বিভেদের প্রতীক বানাতে দেওয়া হবে না।”
লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, ওই দিন ২৬ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন গুরুতর। ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ব্রিটিশ ব্যবসা মন্ত্রী পিটার কাইল মন্তব্য করেন, এই ধরনের ঘটনা মূলত রাজনৈতিক নেতাদের জন্য সতর্কবার্তা। সমাজে অভিবাসনসহ বড় সমস্যাগুলো সমাধানে আরও জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, “সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো আমাদের সমাজে যে বিভাজন তৈরি হচ্ছে, সেটা আর কেবল বাম-ডান রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। টমি রবিনসনের মতো কিছু ব্যক্তি সমাজে অসন্তোষ ও ক্ষোভকে উসকে দিতে পারছে। যারা সহিংসতায় জড়িয়েছে, তারা অবশ্যই আইনের মুখোমুখি হবে।”
এদিকে মার্কিন প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, “প্রতিরোধ করো, নইলে মরে যাও” এবং “অসংযত অভিবাসন” বিষয়ে সতর্ক করেন। মন্ত্রী কাইল এই মন্তব্যকে “সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত” বলে আখ্যা দিয়েছেন।


















