প্রযুক্তি দুনিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ইয়ান লেকুন। মেটার প্রধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিজ্ঞানী হিসেবে বহু বছর নেতৃত্ব ও গবেষণা করার পর এবার নিজস্ব উদ্যোগে নামতে যাচ্ছেন তিনি। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেকুন মেটা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং একটি নতুন এআই স্টার্টআপ গড়তে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছেন।
ইয়ান লেকুন শুধু মেটারই নয়, বরং গোটা এআই বিশ্বেরই এক প্রতীকী নাম। তিনি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক, মেটার সিনিয়র রিসার্চার এবং ২০১৮ সালের মর্যাদাপূর্ণ এ. এম. টারিং পুরস্কারজয়ী, যেটিকে অনেকেই ‘কম্পিউটার বিজ্ঞানের নোবেল’ বলে থাকেন।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি মেটা ছাড়বেন। তার নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হবে “ওয়ার্ল্ড মডেলস” নামে এক নতুন প্রজন্মের এআই প্রযুক্তি তৈরি করা, যা আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে নিজস্ব ধারণা গড়ে তুলে কারণ–ফল সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে এবং ভবিষ্যৎ ফলাফল অনুমান করতে সক্ষম হবে।
গুগলের ডিপমাইন্ড ও স্টার্টআপ ওয়ার্ল্ড ল্যাবস ইতিমধ্যেই একই ধারণায় কাজ করছে, তবে লেকুনের গবেষণাকেই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগামী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লেকুনের বিদায় এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন মেটা এআই গবেষণায় বড় পরিবর্তন আনছে। ওপেনএআই, গুগল ও অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সম্প্রতি তারা গঠন করেছে “Meta Superintelligence Labs (MSL)” নামের একটি নতুন ইউনিট, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অন্তত ৫০ জন প্রকৌশলী ও গবেষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বড় ভাষা মডেল নিয়ে বরাবরই সন্দিহান লেকুন এক্স (পূর্বের টুইটার)-এ লিখেছিলেন, “মানুষের চেয়ে স্মার্ট এআই সিস্টেম নিয়ন্ত্রণের উপায় খোঁজার আগে আমাদের এমন একটি সিস্টেম বানাতে হবে, যা অন্তত একটি বিড়ালের মতো বুদ্ধিমান।” এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, তিনি বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার চেয়ে বাস্তবভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণাকে বেশি গুরুত্ব দেন।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, লেকুনের প্রস্থান মেটার জন্য বড় ধাক্কা হবে। কারণ তিনি শুধু একজন বিজ্ঞানী নন, বরং কোম্পানির গবেষণাভিত্তিক ভাবমূর্তির অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন। তার নেতৃত্বেই মেটার প্রাথমিক এআই গবেষণা বিভাগ গড়ে উঠেছিল।
মেটা এখনো তার পদত্যাগ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু জানায়নি। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লেকুনের নতুন উদ্যোগ ভবিষ্যতের এআই প্রতিযোগিতায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে, আর মেটার জন্য এটি হবে এক যুগের সমাপ্তি এবং নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা।



















