মুম্বাইয়ে ১৭ শিশুকে জিম্মি করে পুলিশের গুলিতে নিহত ব্যক্তি
ভারতের মুম্বাইয়ে অডিশনের নামে ১৭ শিশুকে জিম্মি করার ঘটনায় পুলিশের অভিযানে রোহিত আর্য নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) শহরের পোওয়াই এলাকার ‘আরএ স্টুডিও’তে এ ঘটনা ঘটে। জিম্মি হওয়া সব শিশুকে পুলিশ নিরাপদে উদ্ধার করেছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, নিজ স্টুডিওতে অডিশনের কথা বলে শিশুদের ডেকে নিয়ে যান রোহিত আর্য। পরে তাদের জিম্মি করে রাখেন। খবর পেয়ে মুম্বাই পুলিশ দ্রুত অভিযান শুরু করে। এ সময় রোহিত পুলিশকে লক্ষ্য করে এয়ারগান দিয়ে গুলি ছোড়েন। জবাবে পুলিশ এক রাউন্ড গুলি চালালে তিনি আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী এসব শিশুকে কয়েক ঘণ্টা ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। তবে সবাইকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক ও রাসায়নিক ভর্তি কয়েকটি পাত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যা দিয়ে রোহিত পুলিশকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে ধারণা করছে তদন্তকারীরা।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর পৌনে ২টার দিকে শিশুদের জিম্মিদশার খবর পায় পুলিশ। পরে পোওয়াই থানার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলোচনার চেষ্টা করেন। কিন্তু রোহিত শিশুদের মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হত্যার হুমকি দেন। একপর্যায়ে পুলিশ স্টুডিওর বাথরুমের দিক দিয়ে প্রবেশ করে ১৭ শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
এর আগে রোহিত আর্য এক ভিডিও বার্তায় বলেন, আত্মহত্যার বদলে তিনি জিম্মিদশা তৈরির পথ বেছে নিয়েছেন। ভিডিওতে তিনি জানান, তার কিছু “সহজ ও নৈতিক দাবি” রয়েছে এবং সামান্য ভুল পদক্ষেপে তিনি আগুন ধরিয়ে দেবেন বলেও হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, তার অর্থের কোনো প্রয়োজন নেই, তিনি সন্ত্রাসীও নন, বরং সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে চান।
রোহিতের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের শিক্ষা দপ্তর তার একটি প্রকল্পের পাওনা অর্থ দেয়নি। তিনি ‘পিএলসি স্যানিটেশন মনিটর প্রজেক্ট’ ও মুখ্যমন্ত্রীর ‘মাই স্কুল, বিউটিফুল স্কুল’ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৩ সালে শুরু করা তার ‘লেটস চেঞ্জ’ প্রচারণার মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতার দূত হিসেবে কাজ করাচ্ছিলেন।
রোহিতের দাবি, শিক্ষা দপ্তর তার প্রকল্পের জন্য ২ কোটি রুপি অনুমোদন দিলেও ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। তিনি এই নিয়ে দুবার অনশন ধর্মঘটে বসেছিলেন এবং অভিযোগ করেছিলেন, তাকে প্রকল্প থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দীপক কেশরকর ব্যক্তিগতভাবে তাকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে দুটি চেকও দিয়েছিলেন।
সূত্র: এনডিটিভি।



















