মিয়ানমারে নির্বাচনের আগে-পরে সেনাবাহিনীর হামলায় ৭০২ বেসামরিক নাগরিক নিহত
মিয়ানমারে গত জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরের ৬ মাস, অর্থাৎ ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর হাতে কমপক্ষে ৭০২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার মিয়ানমার সম্পর্কিত একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর। প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে ১৫৩ জন শিশু এবং ২২৪ জন নারী রয়েছেন এবং ‘বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত’ এলাকাগুলোতে বিমানবাহিনীর ঘন ঘন বিমান অভিযানই নিহতের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার মূল কারণ।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই মিয়ানমারজুড়ে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। দেশের ১৪টি প্রশাসনিক প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চল বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় সেগুলো পুনরুদ্ধার করতে দফায় দফায় বিমান ও সেনা অভিযান শুরু করে সামরিক সরকার। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিয়ানমারের রাজ্যগুলোর মধ্যে সাগাইং অঞ্চলে নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি— প্রায় ১৯১ জন, যার মধ্যে গত অক্টোবর ও ডিসেম্বরে চায়ের দোকান ও স্কুলের সামনে সাধারণ মানুষের ওপর চালানো দুটি পৃথক বিমান হামলায় ৪২ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
বিবিসির প্রতিবেদনে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতন, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং যৌন সহিংসতার পাশাপাশি তাদের জোরপূর্বক আরাকান আর্মিতে যোগ দিতে বাধ্য করার বিষয়টি উঠে এসেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মিয়ানমারের মানুষ নিজ দেশের সেনাবাহিনীর হাতে দীর্ঘ সময় ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হলেও এখন মনে হচ্ছে বহির্বিশ্বের মানুষ তাদের এই কষ্টের কথা সম্পূর্ণ ভুলে গেছে।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে মিয়ানমারে জান্তা নিয়ন্ত্রিত একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অনেক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং দেশের এক একটি বড় অংশে গৃহযুদ্ধের কারণে মানুষ ভোটই দিতে পারেনি। এই পূর্ব-নির্ধারিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে জেনারেল মিন অং হ্লেইং দেশটির প্রেসিডেন্ট হন এবং বর্তমানে দেশটির পার্লামেন্ট সম্পূর্ণভাবে তার অনুগতদের দিয়ে পূর্ণ, যেখানে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য এক-চতুর্থাংশ আসন আগে থেকেই সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।


















