সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬| রাত ৩:০৭

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী শ্রমিক পাঠানোতে অনিশ্চয়তা ও ধীরগতি বৃদ্ধি

প্রতিবেদক
staffreporter
নভেম্বর ১, ২০২৫ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
মালয়েশিয়ায় প্রবাসী শ্রমিক পাঠানোতে অনিশ্চয়তা ও ধীরগতি বৃদ্ধি

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী শ্রমিক পাঠানোতে অনিশ্চয়তা ও ধীরগতি বৃদ্ধি

বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় প্রবাসী শ্রমিক পাঠানো নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। সিন্ডিকেট ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে প্রায় ১৭ হাজার শ্রমিক আটকে থাকায় প্রথম ধাপে মাত্র সাত হাজার ৮৬৯ জনকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে।

মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা এখনও কেবল ৫০০ চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এর ফলে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শ্রমিক পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বোয়েসেল ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত চাহিদাপত্র না পাওয়ায় চাহিদাপত্র সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ, সাক্ষাৎকার, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা ইস্যু ও ফ্লাইট নির্ধারণসহ একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে সময় লাগছে।

মালয়েশিয়া সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, নির্মাণ খাতে কর্মী নিতে হলে সিআইডিবির (নির্মাণ শিল্প উন্নয়ন বোর্ড) প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক। প্রক্রিয়ায় প্রথমে সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে, এরপর নির্বাচিতরা পরীক্ষায় অংশ নেবেন। প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তারা মালয়েশিয়া পাঠানো হবে। প্রথম ধাপে মাত্র তিন হাজার আবেদন জমা পড়ে; চার ধাপে ১,৬০০ জন সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। এদের মধ্যে ১,০৬৬ জনকে কারিগরি প্রশিক্ষণ (১০ দিন) দেওয়া হচ্ছে এবং শেষ পর্যায়ে সফল হলে প্রবাসে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে অর্থনৈতিক ও সিন্ডিকেটজনিত সমস্যা শ্রমিক পাঠানোর পথে বাধা সৃষ্টি করছে। বোয়েসেল থেকে নির্ধারিত অর্থ না পাওয়ায় মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলো কর্মী নিতে অনাগ্রহী। ফলে এজেন্সি ও প্রবাসীরা অতিরিক্ত খরচ বহন করতে বাধ্য হচ্ছেন। একজন শ্রমিককে ধাপে ধাপে প্রায় ১,৬২,০০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে, যেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সার্ভিস চার্জ, প্রশিক্ষণ ফি, সাক্ষাৎকার ফি ও বিমান ভাড়া সব মিলিয়ে খরচ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সময় মাত্র দুই মাস এবং মাত্র ৫০০ চাহিদাপত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিলে অনেক শ্রমিক প্রবাসযাত্রার সুযোগ হারাতে পারেন। খরচ ও প্রক্রিয়ার জটিলতা বিবেচনায় সরকার বা বোয়েসেল শ্রমিকদের জন্য ভর্তুকি প্রদানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বোয়েসেলের নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব) শওকত আলী আশা প্রকাশ করেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিক পাঠানো সম্ভব হবে।

মন্তব্য করুন
Spread the love

সর্বশেষ - রাজনীতি