মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চললে প্রতিবেশীদের বিমানবন্দরে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা নিষেধাজ্ঞা মেনে চললে প্রতিবেশী দেশগুলোকে কঠোর সামরিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহসিন রেজায়ী। আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, প্রতিবেশী দেশগুলো যদি এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে, তবে তাদের ফ্লাইট ও বিমানবন্দরগুলো আর কার্যকর থাকবে না এবং সেগুলোকে সরাসরি ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করা হবে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ হিসেবে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি উড়োজাহাজের জ্বালানি, ল্যান্ডিং বা টিকিটিং সুবিধা বন্ধের নির্দেশ দেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী দেশকে ডলারকেন্দ্রিক বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন। এই ধারাবাহিকতায় ইরাক ও ওমান সরকার ইতোমধ্যেই ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ওপর কড়াকড়ি আরোপ শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের ফলে ইতিমধ্যেই বিমান চলাচলে বড় ধরণের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। ইরানের অন্যতম প্রধান বিমান সংস্থা ‘মাহান এয়ার’ তাদের ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা ও মাস্কাটগামী ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে এবং বাগদাদগামী ফ্লাইট বাতিল করে নাজাফে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে চরম এই সংকটের মধ্যেও চীন এবং তুরস্কের কয়েকটি রুটে এখনো সীমিত পরিসরে ইরানি উড়োজাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে।
এই ত্রিপক্ষীয় অচলাবস্থায় আঞ্চলিক বিমানবন্দর ও এভিয়েশন খাতগুলো এখন চরম উভয়সংকটের মধ্যে পড়েছে। একদিকে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে নিজেদের মুক্ত রাখা, অন্যদিকে তেহরানের সরাসরি সামরিক হামলার ঝুঁকি—এ দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



















