মরণোত্তর অঙ্গদান ও আইন সংশোধনে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের সুযোগ বৃদ্ধির আহ্বান
বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার মানুষ কিডনি বিকল রোগে আক্রান্ত হলেও প্রয়োজনের তুলনায় কিডনি প্রতিস্থাপনের সংখ্যা অত্যন্ত কম। জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা জানান, মরণোত্তর অঙ্গদান কার্যকরভাবে চালু এবং বিদ্যমান আইন আরও যুগোপযোগী করার মাধ্যমে দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।
বর্তমানে দেশে প্রতিবছর ১০ হাজার রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলেও গড়ে মাত্র ২৫০ জনের কিডনি প্রতিস্থাপন করা যাচ্ছে। বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকলে কেউ চাইলেও কিডনি দান করতে পারেন না। ফলে আইনি জটিলতা এড়াতে প্রতিবছর এক হাজারেরও বেশি মানুষ বিদেশে গিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপন করছেন।
সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, উন্নত বিশ্বে ব্রেইন ডেথ হওয়া রোগীদের অঙ্গ সংরক্ষণের জন্য সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ও আধুনিক হাসপাতাল সুবিধা রয়েছে। জীবিত নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে কিডনি নিলে দাতার স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে, তাই মরণোত্তর অঙ্গদানই প্রধান বিকল্প। অথচ বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ কিডনি বিকল হয়ে মারা গেলেও মরণোত্তর অঙ্গদানের হার খুবই সামান্য।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৮৫ কোটির বেশি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত, যার মধ্যে একটি বড় অংশই তাদের এই রোগ সম্পর্কে অসচেতন। চিকিৎসকদের মতে, ২০৪০ সালের মধ্যে বিপুল সংখ্যক কিডনি বিকল রোগী চিকিৎসার অভাবে সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়তে পারেন, যা প্রতিরোধে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।



















