ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি এক লাখ ছাড়ানোর আশঙ্কা ইউএসজিএসের
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ৭ মাত্রার বেশি শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা এক লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা (ইউএসজিএস)। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এই ভয়াবহ পরিণতির কথা জানায়। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ ও ইউএসজিএস সদস্য ভাশান রাইটস জানান, ‘পেজার’ নামক একটি উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের মাত্রা, গভীরতা, অবস্থান, জনসংখ্যার ঘনত্ব, অতীত রেকর্ড এবং ভবনের ধরন বিশ্লেষণ করে এই প্রযুক্তিটি কাজ করে, যার পূর্বাভাস অনেক সময়ই প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির বেশ কাছাকাছি থাকে।
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের জিওলোকেশন করা বিভিন্ন ভিডিওতে রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভবন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। পাহাড়ের ঢালে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়তে দেখা গেছে এবং আতঙ্কিত বাসিন্দাদের নিজেদের প্রিয়জন ও পোষা প্রাণীসহ রাস্তায় নেমে আসতে দেখা যায়।
ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর দেশটিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে জোরদার উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহত অবস্থায় অন্তত ৭ শতাধিক মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেল্লো রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে জানান, বহু ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়েছে এবং দেশের কাছে থাকা সর্বোচ্চ সামর্থ্য ও সম্পদ ব্যবহার করে নিরাপত্তা ও বেসামরিক সহায়তা নিশ্চিত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।



















