মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬| সন্ধ্যা ৭:৫৩

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের তাণ্ডব, উদ্ধার অভিযানে শামিল মাদুরোপুত্র গুয়েরা

প্রতিবেদক
staffreporter
জুন ২৫, ২০২৬ ৪:১১ অপরাহ্ণ
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের তাণ্ডব, উদ্ধার অভিযানে শামিল মাদুরোপুত্র গুয়েরা

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের তাণ্ডব, উদ্ধার অভিযানে শামিল মাদুরোপুত্র গুয়েরা

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পের আঘাতের পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ভবন ধসের ঘটনা ঘটেছে। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর উদ্ধার অভিযানে সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি রাস্তায় নেমে যোগ দিয়েছেন দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সান বার্নার্দিনো এলাকার একটি ধ্বংসস্তূপের সামনে থেকে গুয়েরা জানান যে, দেশের এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতির কারণে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং তিনিও দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে রাস্তায় নেমেছেন।

মাদুরো গুয়েরা জানান, প্রাথমিকভাবে সরকারের কাছে রাজধানীতে অন্তত চারটি বড় ভবন ধসে পড়ার খবর এসেছে, যার মধ্যে সান বার্নার্দিনোতে দুটি, পিন্টো সালিনাসে একটি এবং এল পারাইসোতে একটি ভবন রয়েছে। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের পুরোনো এসব ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়া বাসিন্দাদের জীবিত উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এছাড়া পূর্ব কারাকাসের চাকাও এবং বারুতা পৌরসভাসহ লা গুয়াইরা ও ফ্যালকন রাজ্যও এই জোড়া ভূমিকম্পে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও এই মুহূর্তে নিখুঁত ও সঠিক কোনো পরিসংখ্যান এখনো হাতে আসেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে চলতি বছরের শুরুতে কারাকাসের প্রেসিডেন্সিয়াল বাসভবন থেকে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হয়ে বর্তমানে নিউইয়র্কের ফেডারেল হেফাজতে থাকা ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস দে মাদুরো এই দুর্যোগে জনগণের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেছেন। অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে মাদুরো দেশের এই কঠিন সময়ে সবাইকে সর্বোচ্চ ঐক্য, সংহতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি দেশের প্রতিটি সম্প্রদায়কে তাদের শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থদের যত্ন নেওয়ার এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্ধার ও চিকিৎসা দলের কাজে সর্বাত্মক সহায়তা করার অনুরোধ করেছেন।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে এবং এর ঠিক পরপরই রাজধানী থেকে ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো জানিয়েছেন, দেশজুড়ে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে তারা আরও মূল্যায়নের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে ইউএসজিএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জনঘনত্ব ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে এই জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য করুন
Spread the love

সর্বশেষ - বানিজ্য ও অর্থনীতি