রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬| দুপুর ২:১০

ভুয়া বিজ্ঞাপন থেকেই মেটার বিশাল আয়, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রতিবেদক
staffreporter
নভেম্বর ৯, ২০২৫ ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
ভুয়া বিজ্ঞাপন থেকেই মেটার বিশাল আয়, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ভুয়া বিজ্ঞাপন থেকেই মেটার বিশাল আয়, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মস—যার অধীনে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ পরিচালিত হয়—সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে এক চাঞ্চল্যকর কারণে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মেটার বিপুল পরিমাণ আয় আসছে ভুয়া ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন থেকে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মেটার নিজস্ব এক হিসাব অনুযায়ী ২০২৪ সালে তাদের মোট বার্ষিক আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার এসেছে এসব প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন থেকে। অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা গেছে, গত তিন বছর ধরে কোম্পানিটি অবৈধ জুয়া, ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্প ও নিষিদ্ধ ওষুধের বিজ্ঞাপন ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এসব বিজ্ঞাপনে এমন সব পণ্য বা সেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যা বাস্তবে অস্তিত্বই রাখে না, ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা প্রতারিত হন।

মেটার কাছে ভুয়া বিজ্ঞাপন শনাক্তের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা থাকলেও কোম্পানিটি কেবল তখনই বিজ্ঞাপনদাতার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে, যখন তারা ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত হয় যে বিজ্ঞাপনটি প্রতারণামূলক। এর আগে পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ওই সন্দেহভাজন বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে। বাস্তবে বিজ্ঞাপনগুলো চলতে থাকে, আর মেটার রাজস্ব ক্রমেই বাড়তে থাকে।

এই অভিযোগের জবাবে মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন রয়টার্সকে বলেন, “প্রতিবেদনে মেটার নীতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, গত ১৮ মাসে প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত ব্যবহারকারীর অভিযোগ ৫৮ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে এবং ১৩ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি ভুয়া বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি মেটা সত্যিই ব্যবহারকারীর নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিত, তবে বিজ্ঞাপন যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হতো। বরং এখন মনে হচ্ছে, ব্যবহারকারীর বিশ্বাসের জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত করেও কোম্পানি রাজস্ব আয়ের দিকটিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ তাদের তথ্য, ছবি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। সেখানে প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের বিস্তার শুধু আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি নয়, বরং এটি ব্যবহারকারীর আস্থা ও নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি মেটা এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীর বিশ্বাস হারিয়ে নিজস্ব ব্র্যান্ডমূল্যেই আঘাত পেতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।

মন্তব্য করুন
Spread the love

সর্বশেষ - রাজনীতি