ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র স্বাক্ষর করল ১০ বছরের প্রতিরক্ষা কাঠামো চুক্তি
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী ১০ বছরের জন্য একটি প্রতিরক্ষা কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি ঘোষণার পর জানানো হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বৈঠকের পর চুক্তিটি ঘোষণা করা হয়। হেগসেথ মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে বলেন, “এ চুক্তি দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে এবং অংশীদারিত্বের নতুন দশক সূচিত করবে।”
চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এমন সময়, যখন দুই দেশ বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রাজনাথ সিং এক্সে লিখেছেন, এই চুক্তি ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঐকমত্যের প্রমাণ এবং একটি মুক্ত, অবাধ ও নিয়মনীতি-ভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যবেক্ষক সংস্থা ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রমিত পাল চৌধুরী বলেন, চুক্তিটি এই বছরের জুলাই-আগস্টের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে ট্রাম্পের বক্তব্যের কারণে বিলম্ব হয়। তিনি আরও জানিয়েছেন, নতুন চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে, ভারতকে প্রযুক্তি পাওয়ায় সুবিধা হবে এবং প্রতিরক্ষা খাতের ক্ষেত্রে একসাথে কাজের সুযোগ তৈরি হবে।
ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল। ট্রাম্প সেই সময় জানিয়েছেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কিনবে, যা ভবিষ্যতে এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান পাওয়ার পথ খুলে দিতে পারে।
ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাশিয়া এখনো দেশটির প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী হলেও সরবরাহ কমছে। দিল্লি অন্যান্য দেশের দিকে ঝুঁকছে এবং দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে চাইছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত। একদিকে বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা চলছে, যার লক্ষ্য নভেম্বরের মধ্যে তা চূড়ান্ত করা।


















