ভারতের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৯ হাজার তথ্য ফাঁস, নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ
ভারতের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র কুদানকুলাম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের (কেকেএনপি) বিপুল পরিমাণ স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপ ওয়ার্ল্ড লিকস। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রায় ১৯ হাজার তথ্য ফাঁস করা হয়েছে, যার সম্মিলিত পরিমাণ ১৪.৩ গিগাবাইট। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের বিভিন্ন অংশের নকশা, ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ, সরবরাহকারীদের বিবরণ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত অত্যন্ত গোপনীয় নথিপত্র রয়েছে।
এই পারমাণবিক কেন্দ্রের অন্যতম ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনিল আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তথ্যভাণ্ডারের কিছু অংশ মূলত ডেটা পরিষেবা প্রদানকারী ভারতীয় স্টার্টআপ কোম্পানি ‘ইয়োত্তা’র সার্ভার থেকে ফাঁস হয়েছে এবং বিষয়টি ইতিমধ্যে সরকারকে জানানো হয়েছে। তবে ইয়োত্তা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সার্ভারটি রিলায়েন্স গ্রুপের নিজস্ব ছিল এবং গত মে মাসেই সেখানে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। হ্যাকাররা জুন মাসে তথ্যগুলো চুরি করে এবং সম্প্রতি তা ইন্টারনেটে প্রকাশ করে মুক্তিপণ দাবি করছে।
রয়টার্স জানায়, ফাঁস হওয়া তথ্যগুলো ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের এবং এগুলো বেশ স্পর্শকাতর হলেও রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি রোসাটমের সরবরাহ করা মূল নকশা বা কোর সিস্টেমের কোনো তথ্য হ্যাকাররা পায়নি। তবে মার্কিন অলাভজনক সংস্থা ‘নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভস’-এর জ্যেষ্ঠ পরিচালক নিকোলাস রোথ এই ঘটনাকে গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে দুষ্কৃতিকারীরা বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে নিখুঁত হামলার পরিকল্পনা করতে পারে, কারণ এতে স্পর্শকাতর অংশে প্রবেশের সুনির্দিষ্ট পথ ও বিবরণ রয়েছে।
এই চরম নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনার পর ভারতের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া’ ইতিমধ্যে রিলায়েন্স গ্রুপের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ করেছে। একই সাথে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের প্রধান সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম’।



















