ভবিষ্যতের নীরব শহর: যেখানে গাড়ি কথা বলে না, শুনে চলে
কল্পনা করুন এমন এক শহরের, যেখানে রাস্তায় হাজারো গাড়ি চলছে—কিন্তু কোনো শব্দ নেই। নেই হর্ন, নেই ইঞ্জিনের গর্জন, নেই ট্রাফিক পুলিশ। অথচ সব কিছু চলছে নিখুঁতভাবে, মিনিটে মিনিটে সময় মেনে। এটাই ভবিষ্যতের “নীরব শহর”—যার পরীক্ষামূলক মডেল তৈরি করছে দক্ষিণ কোরিয়া ও নরওয়ে যৌথভাবে।
এই শহরে প্রতিটি গাড়ি চালায় না মানুষ, চালায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। গাড়িগুলোর কোনো স্টিয়ারিং বা হর্নই থাকবে না। তারা একে অপরের সঙ্গে “নীরব কথোপকথন” চালাবে—রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে। এক গাড়ি যদি ডান দিকে মোড় নেয়, আশেপাশের গাড়িগুলো তা আগেই জানবে। ফলে সংঘর্ষ বা ট্রাফিকজট—দুটোই প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে।
শহরটির নাম প্রস্তাব করা হয়েছে “Eunoia City”—গ্রিক শব্দ, যার অর্থ “শান্ত ভাবনা”। নির্মাণ শুরু হবে ২০৩০ সালে। এখানে সব গাড়ি, ড্রোন ও বাস একীভূত ডেটা সেন্টারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। মানুষ চাইলে শুধুমাত্র গন্তব্য বললেই হবে—গাড়ি নিজে পথ ঠিক করে নিয়ে যাবে, পরিবেশবান্ধব গতিতে চলবে, এমনকি আবহাওয়া অনুযায়ী গতি কমাবে বা বাড়াবে।
এই নীরব শহরে শব্দদূষণ থাকবে না বললেই চলে। গবেষকদের মতে, এতে মানুষের মানসিক চাপ প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাবে। বাচ্চারা রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে, আর কর্মজীবীরা পাবেন এক নতুন ধরনের প্রশান্তি।
তবে সমালোচকরাও রয়েছেন। তাদের মতে, সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করা মানে মানুষের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা হারানো। কোনো সফটওয়্যার ত্রুটি বা সাইবার হামলা পুরো শহরকে পঙ্গু করে দিতে পারে।
তবুও প্রযুক্তি থেমে থাকে না। হয়তো একদিন ঢাকাতেও আমরা দেখব—নীরব রাস্তায় ভেসে চলছে গাড়ি, যেগুলো কথা বলে না, শুধু বোঝে। আর আমরা মানুষ—হয়তো তখন আবার শিখব চুপ করে থাকা কত সুন্দর হতে পারে।



















