বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে হ্রাস
বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে ৬.৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই উদ্বেগের কথা জানান। তাসকীন আহমেদ উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে নীতিগত সুদের হার ১০ শতাংশ হওয়ায় ঋণের ওপর কার্যকর সুদহার প্রায় ১৬-১৭ শতাংশে পৌঁছেছে।
এই পরিস্থিতিকে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্য সংকটের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, উচ্চ সুদহারের কারণে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য অর্থায়ন অনেক ব্যয়বহুল ও অকার্যকর হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি নীতিগত সুদের হার ক্রমান্বয়ে কমানোর পাশাপাশি রপ্তানিমুখী ও উৎপাদনশীল খাতের জন্য বিশেষ ভর্তুকিযুক্ত ঋণসুবিধা চালু করার প্রস্তাব করেন। তিনি আরও জানান, ঋণ গ্রহণ ও দেওয়ার সুদের হারের মধ্যে বড় ব্যবধান বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।
বিনিয়োগ পরিবেশ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ডিসিসিআই সভাপতি ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি জ্বালানি সংকট ও ব্যবসা পরিচালনার উচ্চ ব্যয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে অনিচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের জন্য পুনঃতফসিল সুবিধা পুনর্বিবেচনা এবং ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমা অন্তত ৬ মাস পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানান। তাঁর মতে, বিদ্যমান নীতিমালার কড়াকড়িতে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এ সময় অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, দেশের সিএসএমই ও কৃষি খাতের উন্নয়ন স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি কাটিয়ে উঠতে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সভায় ডিসিসিআই ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


















