বেলজিয়াম ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে, ইসরায়েলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা
গাজায় মানবিক বিপর্যয় ও ইসরায়েলের সহিংসতার প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বেলজিয়াম। দেশটি এই সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জানাবে। পাশাপাশি, বেলজিয়াম ইসরায়েলের ওপর ১২টি নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো জানান, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বেলজিয়াম ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণায় অংশগ্রহণ করছে। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান প্রতিষ্ঠা করা—অর্থাৎ ইসরায়েলের পাশে শান্তিপূর্ণভাবে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন করা।
প্রেভো জানান, ফিলিস্তিনে বিশেষ করে গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের সহিংসতার প্রেক্ষাপটে বেলজিয়াম এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একইসঙ্গে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ১২টি “কঠোর” নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। এতে রয়েছে দখলকৃত অঞ্চলের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা, ইসরায়েলি কোম্পানির সঙ্গে সরকারি ক্রয়নীতির পুনর্বিবেচনা এবং হামাস নেতাদের বেলজিয়ামে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা।
ফিলিস্তিন পশ্চিম তীর ও গাজায় দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে, যেখানে পূর্ব জেরুজালেম হবে রাজধানী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, এমন রাষ্ট্র কেবল ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
প্রেভো বলেন, বেলজিয়ামের এই পদক্ষেপ ইসরায়েলি সরকার ও হামাস উভয়ের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির লক্ষ্য রাখছে। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছে, ইসরায়েলের দখলদারিত্ব এবং পশ্চিম তীরসহ দখলকৃত অঞ্চলে বসতি স্থাপন বেআইনি, যা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে। যদিও ইসরায়েল এসব অঞ্চলকে বিতর্কিত বলে দাবি করে, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ ও জাতিসংঘ এগুলোকে দখলকৃত অঞ্চল হিসেবে দেখছে।



















