বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির দ্রুততম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে ইরান
ইরানে বিক্ষোভ করার অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়া এরফান সোলতানি নামের এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড আজ বুধবার কার্যকর হতে যাচ্ছে। পেশায় দোকানদার সোলতানিকে গত ৮ জানুয়ারি তেহরানের উপকণ্ঠ কারাজ শহর থেকে গ্রেপ্তার করে দেশটির আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী। মাত্র তিন দিনের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে ‘আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ বা মোহারেবেহ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে এই চূড়ান্ত দণ্ডাদেশ প্রদান করে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই দ্রুত বিচার ও দণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ জানুয়ারি সোলতানির মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তাকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, এরফান সোলতানি বিক্ষোভে কেবল স্বাধীনতার স্লোগান দিয়েছিলেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে তার সম্পৃক্ততা ছিল না।
সোলতানির পরিবার জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর বেশ কয়েক দিন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তারা মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি জানতে পারেন। সোলতানির বোন একজন পেশাদার আইনজীবী হওয়া সত্ত্বেও তাকে ভাইয়ের পক্ষে আইনি লড়াই করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। দণ্ড কার্যকরের দিন সকালে পরিবারের সদস্যদের মাত্র ১০ মিনিটের জন্য তার সাথে শেষ দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা ‘হেংগো’ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, অন্য বিক্ষোভকারীদের মনে ভয় জাগিয়ে তুলতে এরফান সোলতানিকে কোনো প্রকাশ্য স্থানে ফাঁসিতে ঝোলানো হতে পারে। আকস্মিক এই মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় তার পরিবার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।



















