বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে ইরানে কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো ধরনের প্রাণঘাতী হামলা বা হত্যাযজ্ঞ চালানো হলে দেশটিতে অত্যন্ত কঠোর সামরিক হামলা চালানো হবে বলে নতুন করে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান সরকার বর্তমানে বড় ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ শহর এখন বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে, যা কয়েক সপ্তাহ আগেও অকল্পনীয় ছিল।
ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ওয়াশিংটন। তিনি ইরান সরকারকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়ে বলেছেন, যদি তারা অতীতে যেভাবে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করেছে, তার পুনরাবৃত্তি ঘটায় তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এতে জড়িয়ে পড়বে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এর অর্থ এই নয় যে মার্কিন স্থলবাহিনী বা পদাতিক সেনারা ইরানে প্রবেশ করবে। বরং তার পরিবর্তে এমন সব স্থানে অত্যন্ত কঠোর হামলা চালানো হবে, যেখানে আঘাত করলে ইরান সরকার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অসাধারণ’ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, দেশটির ইসলামি শাসকরা দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সাথে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেছে এবং দেশ পরিচালনায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এখন সেই সব অপকর্মের ফল তারা হাতেনাতে পাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন, বর্তমান গণঅভ্যুত্থান মূলত ইরান সরকারের অপশাসনেরই একটি অনিবার্য প্রতিক্রিয়া।
উল্লেখ্য যে, গত ১৩ দিন ধরে চলতে থাকা এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা অনেক বেড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা দাবি করেছে। বিক্ষোভ দমাতে ইরান সরকার ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কড়া সতর্কবার্তা এল। এর আগে তিনি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে নেওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করে ইরানকেও একই ধরনের পরিণতির ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন।



















