বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা ও রাজনৈতিক কৌশল: নির্বাচনমুখী রাজনীতির প্রস্তুতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি সম্প্রতি তাদের দলীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে রাজনীতিকে নির্বাচনমুখী করার একটি কৌশল প্রয়োগ করেছে। জুলাইয়ে নীতিগত আলোচনার মধ্য দিয়ে সরকারের সংস্কার বাস্তবায়ন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ নিয়ে যে আলোচনার তৎপরতা ছিল, তাতে অনেকটাই ভাটা পড়েছে। দেশজুড়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো একমত হওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না।
সরকারের দেওয়া সাত দিনের সময়সীমা অনুযায়ী দলগুলোকে নিজ নিজ মতামত একত্রে সরকারকে জানাতে হবে। তবে বিএনপি এই সময়সীমাকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচনমুখী মনোভাব প্রদর্শন করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি সরকারের ‘কৌশলকে’ প্রতিহত করে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বিএনপিকে সক্রিয় করেছে।
দলের স্থায়ী কমিটি ৩ নভেম্বর জরুরি সভা করে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। এরপর দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে বিএনপির প্রার্থী তালিকা ও নির্বাচনের প্রসঙ্গ। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেছেন, বিএনপি এখন ভোট প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত, অন্য বিষয়ে তারা আগ্রহী নয়।
অন্য দলগুলোর মধ্যে জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণসংহতি আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদসহ কিছু দল ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জামায়াতও নির্বাচনের আগে দলের প্রার্থী তালিকা কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে। তবে দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এখনও রয়ে গেছে, বিশেষ করে গণভোট ও নোট অব ডিসেন্ট সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে।
সরকার যে সময়সীমা দিয়েছে, তা জামায়াতের মতো দলগুলোর কাছে ইতিবাচক মনে হলেও বিএনপি এ বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেবে না। এনসিপি ও অন্যান্য ছোট দলও সরকারের দেওয়া সময়ের চার দিন পার হওয়ার পর কার্যকর ফলাফল আশা করছে না। এতে রাজনৈতিক দৃশ্যপট কিছুটা চাপে ও জটিল হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের সময়সীমা চাপিয়ে দেওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য দলের আচরণ নির্বাচনমুখী রাজনীতির প্রেক্ষাপটেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এখন মূল প্রশ্ন, সংস্কার বাস্তবায়ন ও গণভোটের দিনক্ষণ নিয়ে দলগুলো কতটা নিজস্ব আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে পাবে।
সংক্ষেপে বলা যায়, বিএনপি তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে রাজনৈতিক কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচনমুখী রাজনীতির দিকে অবস্থান নিয়েছে, যা অন্যান্য দলগুলোর কর্মধারায় প্রভাব ফেলছে এবং সরকারের প্রদত্ত সময়সীমাকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

















