শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬| সন্ধ্যা ৬:০০

বাজেট অধিবেশনে অর্থনৈতিক সংকটের তীব্র সমালোচনা করলেন এমপি আখতার হোসেন

প্রতিবেদক
staffreporter
জুন ২৬, ২০২৬ ৩:০১ অপরাহ্ণ
বাজেট অধিবেশনে অর্থনৈতিক সংকটের তীব্র সমালোচনা করলেন এমপি আখতার হোসেন

বাজেট অধিবেশনে অর্থনৈতিক সংকটের তীব্র সমালোচনা করলেন এমপি আখতার হোসেন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বাজেট অধিবেশনে বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় তিনি এ বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত চার মাসে ঋণের পরিমাণ আরও এক লাখ কোটি টাকার বেশি বেড়ে এখন ২৪ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা দেশকে আরও বড় ঋণের জালে আবদ্ধ করেছে।

আখতার হোসেন গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেটে রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বললেও সরকারি দলের মধ্যে এর কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। জনগণ সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও স্বাধীন বিচার বিভাগের পক্ষে রায় দিলেও সরকার সে বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। সুশাসন, গণতন্ত্র ও সংস্কার নিশ্চিত করতে না পারলে আইএমএফের মতো সরকারি দলকেও জনগণের কাছ থেকে ফিরে আসতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এছাড়া, অর্থনৈতিক খাতগুলোতে বড় কোনো সংস্কার না করার কারণে আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পাওয়া যায়নি এবং এই সংস্কারের ব্যাপারে বিএনপি সরকার ইতিবাচক নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের ব্যাংকিং খাতের অরাজকতা ও অর্থনৈতিক সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ আমাদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি বর্তমানে ১০ শতাংশের কাছাকাছি। ব্যাংক রেজুলেশন আইনের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেসব মালিক ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করে টাকা পাচার ও লুটপাট করেছে, আবারও তাদের কাছেই ব্যাংক ফিরিয়ে দেওয়ার পেছনের ফায়দা কী হতে পারে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২৪০ বিলিয়ন ডলার পাচার হওয়ার শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন যে, দেশের অর্থনীতি এখন একটি শূন্য ঝুপড়ির মতো হয়ে পড়েছে।

বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি—সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের এমন দাবির কড়া সমালোচনা করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, সরকার বাজেট ঘোষণার আগেই তার তিন মাসের মেয়াদে দুদফায় বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। অর্থাৎ, সরকার শুধু বাজেট ঘোষণার পর নয়, বরং জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর সব মেকানিজম আগে থেকেই চূড়ান্ত করে রেখেছিল, যার ফলে সাধারণ মানুষ তীব্র সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।

মন্তব্য করুন
Spread the love

সর্বশেষ - বানিজ্য ও অর্থনীতি