বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়ে সংসদে মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের বক্তব্য
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোকে স্বাগত জানিয়েছেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। তবে তিনি গুরুত্বারোপ করে বলেন, শুধু বাজেট বাড়ালেই হবে না; জনবল সংকট, ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, চিকিৎসাকেন্দ্রে বিকল যন্ত্রপাতি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতা দূর না হলে দেশের স্বাস্থ্য খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব নয়। বর্তমানে দেশে স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৮০ হাজার পদ খালি রয়েছে বলেও তিনি সংসদকে জানান।
এমপি ফরিদ স্বাস্থ্য বাজেট বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য উপকরণের ওপর কর কমানো এবং স্নাতক পর্যন্ত নারীদের শিক্ষাকে বিনামূল্যে করার সরকারি উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ শতাংশ বরাদ্দ ইতিবাচক হলেও এই লক্ষ্যমাত্রা অন্তত ৫ শতাংশ হওয়া উচিত, কারণ আশেপাশের অনেক দেশই ইতিমধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাতের বড় সংকট হিসেবে জনবল সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মানদণ্ডের তুলনায় দেশে মাত্র ১৮ শতাংশ জনবল রয়েছে। অথচ গত বছর পরিচালন খাত থেকে ২ হাজার কোটি টাকা এবং প্রকল্প খাত থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা খরচ না হতে পেরে ফেরত গিয়েছে। গ্রামীণ পর্যায়ে বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধরে রাখতে তাদের অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচের একটি চিত্র তুলে ধরে বলেন, সরকারের স্বাস্থ্য বাজেট যদি ৬৯ হাজার কোটি টাকা হয়, সেখানে জনগণকে নিজেদের পকেট থেকে ব্যয় করতে হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭৯ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা ওষুধে এবং ২৫ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় খরচ হচ্ছে। দেশের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর ৫০ শতাংশের বেশি যন্ত্রপাতি সামান্য মেরামতের অভাবে বিকল হয়ে পড়ে আছে উল্লেখ করে তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি-৩ অর্জনে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় পরিকল্পিত অর্থায়ন, গবেষণা ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেন।



















