শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬| রাত ১:২১

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড বাণিজ্যিক নিলামে যাচ্ছে

প্রতিবেদক
staffreporter
নভেম্বর ২৮, ২০২৫ ১:১৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড বাণিজ্যিক নিলামে যাচ্ছে

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড বাণিজ্যিক নিলামে যাচ্ছে

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড বাণিজ্যিক মোবাইল অপারেটরদের জন্য নিলামে যাবে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অকশন ২০২৬–এর আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ২৭ নভেম্বর প্রকাশ করেছে। ঘোষিত নির্দেশনা অনুসারে, নিলাম অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৪ জানুয়ারি ঢাকায়। এতে নিলামের কাঠামো, যোগ্যতা, বিডিং পদ্ধতি, ফি ও পেমেন্ট শর্তাবলি সব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফাইয়েজ আহমেদ তাইয়েব সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিশ্চয়তা ও পরিকল্পিত জটিলতার কারণে অব্যবহৃত ছিল। ন্যূনতম মূল্য অনুযায়ী রাষ্ট্রের অন্তত এগারো হাজার কোটি টাকার সম্পদ অকারণে আটকে ছিল। বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে অকশন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

এর আগে, বিটিআরসির কাছ থেকে বিনামূল্যে ২০০৭ সালে স্পেকট্রাম পেয়েছিল অলওয়েজ অন নেটওয়ার্ক। এরপর প্রতিষ্ঠানটি তরঙ্গ ছাড়তে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা দাবি করেছিল। ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিটিআরসি ওই স্পেকট্রাম বরাদ্দ বাতিল করে। তবে দীর্ঘদিন ধরে নেটওয়ার্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রিটের কারণে স্পেকট্রাম জিম্মি ছিল।

বিশ্বব্যাপী ৭০০ মেগাহার্টজ ‘স্বর্ণব্যান্ড’ হিসেবে পরিচিত। কম শক্তিতে বিস্তৃত কাভারেজ দিতে সক্ষম এই ব্যান্ড ব্যবহৃত হলে মোবাইল সেবার মান, বিশেষ করে ফোরজি ও ফাইভজি কাভারেজ, উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। শহর থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত নেটওয়ার্ক সুবিধা সমানভাবে বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘদিন এই ব্যান্ড না থাকার কারণে অপারেটরদের নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা ও নতুন প্রযুক্তি স্থাপন সীমিত ছিল।

নিলামের কাঠামো অনুযায়ী, মোট ২৫ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম পাঁচটি সমান ব্লকে ভাগ করা হবে। প্রয়োজনে ২০ মেগাহার্টজ অতিরিক্ত স্পেকট্রামও অফার করা যেতে পারে। নিলামে অংশ নিতে পারবে কেবল বিদ্যমান মোবাইল অপারেটররা। আবেদন ফি ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলে বিড আর্নেস্ট মানি প্রদান করে চূড়ান্তভাবে বিডিংয়ে অংশ নেওয়া যাবে। নিলাম উন্মুক্ত পদ্ধতিতে লাইভ রাউন্ডভিত্তিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে।

পেমেন্ট কাঠামো অনুযায়ী, নিলামে জিতলে মোট স্পেকট্রাম ফি–এর ১০ শতাংশ ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। বাকি ৯০ শতাংশ নয় বছরের মধ্যে সমান কিস্তিতে বা এককালীন পরিশোধের সুবিধা রয়েছে। যদি কোনো ব্লক অবিক্রীত থাকে, বিটিআরসি এক বছরের মধ্যে প্রশাসনিকভাবে তা বরাদ্দ দিতে পারবে।

ফাইয়েজ আহমেদ তাইয়েব বলেন, “জিএসএ সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন অভিযোগ করছিল যে বাংলাদেশের তরঙ্গ অত্যন্ত দামি। রোল আউট অবলিগেশনের ২০ শতাংশ এবং বেস প্রাইস থেকে ১০ শতাংশ ফি রেশন প্রয়োগে আমরা এই অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পাচ্ছি।”

নির্দিষ্ট ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড চালু হলে মোবাইল খাতে নতুন বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে। গ্রাহকের অভিজ্ঞতা উন্নত হবে, নেটওয়ার্ক কভারেজ বাড়বে এবং স্মার্ট কানেক্টিভিটি যেমন স্মার্ট সিটি ও জাতীয় ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ আরও বাস্তবসম্মত হবে। দীর্ঘদিন আটকে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ স্পেকট্রাম খোলার মাধ্যমে খাতটি বড় প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন
Spread the love

সর্বশেষ - রাজনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত