বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২২ অক্টোবর) দিনের শেষ পর্যায়ে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২.১০ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৭.৩৫ বিলিয়ন ডলার।
মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিলে প্রকৃত বা নিট রিজার্ভ পাওয়া যায়। এছাড়া ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ হিসাবও আছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় না। এতে আইএমএফের এসডিআর খাতে থাকা ডলার, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং এবং আকুর বিল বাদ দিয়ে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসাব করা হয়। সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর) বা ব্যয়যোগ্য নিট রিজার্ভ ২২ বিলিয়ন ডলারের ওপরে, যা প্রতি মাসে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের আমদানি ব্যয় মেটাতে সক্ষম। এটি দেশের চার মাসের আমদানি ব্যয় পূরণ করার সমতুল্য। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম তিন মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকা আবশ্যক।
সাম্প্রতিক সময়ে রিজার্ভ বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এর আগে, ২০২১ সালের আগস্টে রিজার্ভ সর্বোচ্চ পৌঁছেছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চাপে এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তা কমে আসে। চলতি হিসাবের ঘাটতি ও টাকার বিপরীতে ডলারের দর অবনমনের প্রভাব মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে। ২০২২ সালের জুলাইয়ে রিজার্ভ পুনরায় বাড়াতে বাংলাদেশ আইএমএফ-এর কাছে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা চায়।
এভাবে, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় চাহিদার তুলনায় নিরাপদ পর্যায়ে রিজার্ভ ধরে রাখতে সক্ষম, যা দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


















