ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব ভায়োলেন্স এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দৃশ্যমান হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালে সারাদেশে ৯১৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১৩৩ জন নিহত এবং সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
সর্বশেষ সোমবার চট্টগ্রামের রাউজানে একজন যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত মাসে তফসিল ঘোষণার পরদিনই ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের সভাপতি শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কক্সবাজারে একজন প্রার্থীকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনাও রিপোর্ট হয়েছে। ২০২৪ সালের পাঁচ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের সময় পুলিশি থানায় অস্ত্র ও গুলি লুট হয় এবং এখনো এর ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন বলছে যে সব ঘটনা ঘটছে তার সবগুলো নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতা নয়। তবে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাকসুদ স্বীকার করেছেন যে সহিংসতা যেভাবেই হোক থামাতে হবে এবং সহিংসতা থাকলে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন সংক্রান্ত সহিংসতার ৫৪টি ঘটনায় তিনজন নিহত এবং ৪৯৪ জন আহত হয়েছে। এছাড়া মব সহিংসতা এবং গণপিটুনিতে অন্তত ১৬৮ জন নিহত হয়েছে।
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর আগেই হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসছে। নির্বাচন বিশ্লেষক মনে করেন যে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে থাকে যা নির্বাচনের পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং ইসলামী আন্দোলন নির্বাচন কমিশনের বিপক্ষে প্রশাসনের একপাক্ষিক আচরণের অভিযোগ তুলেছে এবং একটি পাতানো নির্বাচনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সবাইকে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে।



















