ফিনল্যান্ডে অনিয়মিত অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর সংখ্যা বাড়ছে: আতঙ্কে রয়েছেন অনেকে
নর্ডিক দেশ ফিনল্যান্ড অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, যার ফলে দেশে থাকা নথিবিহীন অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের কঠোর নীতি বাস্তবায়নের ফলে প্রত্যাবাসনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট দুই হাজার ৭০ জন অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ২০২৪ সালের একই সময়ে তার চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি।
হেলসিঙ্কিতে অবস্থিত ‘হাউস অব দ্য হোপ’ নামের ডে সেন্টারটি মূলত নথিবিহীন অভিবাসীদের সহায়তা দিয়ে থাকে। এখানে তারা আইনি সহায়তা, চিকিৎসা এবং প্রতিদিন দুপুরের খাবার পান। এই সেন্টারটি একটি খ্রিস্টান বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
মরক্কোর এক ৫০ বছর বয়সী নারী অভিবাসী, যিনি ২০২৪ সালের প্রথম দিকে ফিনল্যান্ডে এসেছিলেন, জানিয়েছে যে তার পরিস্থিতি খুবই কঠিন। তিনি সেখানে সমাজকর্মী হিসেবে চাকরি খুঁজছিলেন, কিন্তু ৯০ দিনের মধ্যে কোনো কাজ পাননি। ফিনল্যান্ডের আইন অনুযায়ী, রেসিডেন্স পারমিট ছাড়া তৃতীয় দেশের নাগরিকরা ৯০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারেন এবং নথিবিহীন অবস্থায় চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। ওই নারী বলছেন, নিজ দেশে ফেরত গেলে তার সাবেক স্বামী মারাত্মক আচরণ করতে পারেন, তাই সে ফিরে যেতে পারছে না।
‘হাউস অব দ্য হোপ’-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার আনে হামাদের জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে ডানপন্থি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অভিবাসন আইন আরও কঠোর হয়েছে। এর ফলে অনিয়মিত অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে ভয় পাচ্ছেন।
ফিনল্যান্ডের পুলিশের চিফ সুপারিনটেন্ডেন্ট ইয়ানে লেপসু জানিয়েছেন, বিদেশিদের থাকার অধিকারের বিষয়টি নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। যদি কোনো ব্যক্তি বৈধ অধিকার ছাড়া ফিনল্যান্ডে অবস্থান করে, তাহলে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি শেঙ্গেন অঞ্চলের বাইরে পাঠানোর সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে ফিনল্যান্ডে নথিবিহীন বা অনিয়মিত অবস্থানে থাকা অভিবাসীর সংখ্যা সাড়ে তিন থেকে পাঁচ হাজার।
সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস



















