পুরনো রেডিওর সুরে ফিরছে হারানো দিনের স্মৃতি
ডিজিটাল যুগে যখন সবাই স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের দিকে ঝুঁকেছে, তখনো কিছু মানুষ আছেন যারা এখনো ভালোবাসেন পুরনো দিনের সেই রেডিও। কাঠের বাক্সে মোটা অ্যান্টেনা, পাশে ছোট্ট গোল বোতাম—যার ভেতর থেকে ভেসে আসে ক্র্যাকলিং আওয়াজের সঙ্গে এক টুকরো স্মৃতি।
রাজধানীর বনানীতে এমনই একজন মানুষ মিজানুর রহমান। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, কিন্তু অবসরে রেডিওই তার নেশা। তার ঘরে রাখা আছে প্রায় ৬০টিরও বেশি পুরনো রেডিও—বাংলাদেশ, ভারত, জার্মানি, এমনকি সোভিয়েত যুগের মডেলও রয়েছে সেখানে।
মিজানুর রহমান বলেন, “এই রেডিওগুলো শুধু যন্ত্র নয়, ইতিহাসের অংশ। প্রতিটি রেডিওর আলাদা গল্প আছে—কেউ শুনেছে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, কেউবা প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপের ধারাভাষ্য।”
অনলাইন স্ট্রিমিং, ইউটিউব বা পডকাস্টের যুগেও রেডিওর এই ভক্তরা কম নন। পুরনো দিনের সুর, নাটক কিংবা সংবাদ শোনার মধ্যে এখনো এক ধরনের আবেগ কাজ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনকি “রেডিও কালেক্টরস বাংলাদেশ” নামে একটি ছোট্ট কমিউনিটিও গড়ে উঠেছে, যেখানে মানুষ তাদের পুরনো রেডিও সংগ্রহ, মেরামত ও ইতিহাস শেয়ার করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেডিও শুধু তথ্যের মাধ্যম নয়, এটি এক ধরনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এর শব্দে মিশে আছে একটি প্রজন্মের আনন্দ, দুঃখ আর সময়ের স্পন্দন।
আজকের এই ডিজিটাল পৃথিবীতে পুরনো রেডিও যেন অতীতের সোনালি দিনের সঙ্গে এক সেতুবন্ধন—যেখানে প্রযুক্তি নয়, আবেগই মূল চালিকাশক্তি।



















