পুঁজিবাজারে আধুনিক যাত্রার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন খালেদা জিয়া
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল এবং তার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলেই আজকের আধুনিক পুঁজিবাজার গড়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার স্মরণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও ডিবিএ’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
সাইফুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন একজন মানবিক ও সহনশীল রাজনীতিবিদ, যিনি ভিন্নমতের প্রতিও সম্মান দেখিয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে, বিশেষ করে গত দেড় দশকের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দেশ ও মানুষের স্বার্থে আপসহীন ছিলেন। জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্র রক্ষায় তার ভূমিকা আজও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৯১ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য পুঁজিবাজার উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি এই খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেন। তার সেই দূরদর্শী সিদ্ধান্তই আজকের শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজিবাজার গঠনে সহায়ক হয়েছে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাকে স্মরণ করে তিনি মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, বিএপিএলসির প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ডিএসইর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজিত স্মরণসভায় ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাজারভিত্তিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। তার শাসনামলেই বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামোর ভিত্তি স্থাপিত হয়, যার সুফল আজ দেশের সাধারণ মানুষ ভোগ করছে। পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতেও তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতা। তার সরকারের সময় ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন গঠিত হয়, যা দেশের পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, একজন মানুষের প্রকৃত মূল্য সবচেয়ে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় তার প্রয়াণের পর মানুষের ভালোবাসা ও আবেগে। বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে তিনি কত মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন, যা বাংলাদেশের জন্যই নয়, বিশ্বব্যাপী এক বিরল দৃষ্টান্ত।
বিএপিএলসির প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন প্রধানমন্ত্রী বা রাজনৈতিক নেত্রী নন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি সমাজ ও সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছিলেন। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও দেশের মানুষের কাছে তিনি যে গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন, তা তাকে সব সীমার ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভাতিজা মো. শামস ইস্কান্দার পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে মরহুমার জন্য দোয়া কামনা করেন।



















