পাহাড়পুর মহাবিহার: প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্যের মহিমা
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় নওগাঁ জেলার বদলগাছীতে অবস্থিত পাহাড়পুর মহাবিহার শুধু একটি ঐতিহাসিক নিদর্শনই নয়, বরং এটি একসময়ের সমৃদ্ধ বৌদ্ধ সভ্যতার সাক্ষ্য বহন করছে। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এই মহাবিহারকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে।
পাহাড়পুর মহাবিহার বা সোমপুর মহাবিহার নির্মিত হয়েছিল পাল রাজা ধর্মপাল দেবের আমলে (অষ্টম শতাব্দী)। ধারণা করা হয়, এটি ছিল তৎকালীন দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় শিক্ষাকেন্দ্র, যেখানে হাজারো ভিক্ষু ও শিক্ষার্থী দর্শন, সাহিত্য, জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র এবং ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন করত।
বিশাল এই স্থাপত্যে রয়েছে চারদিক ঘেরা প্রাচীর, যার ভেতরে আছে অসংখ্য কক্ষ, প্রার্থনাকক্ষ ও মন্দির। মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা প্রধান স্তূপের ভগ্নাবশেষ এখনও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। লাল ইট দিয়ে গড়া এই স্থাপত্যে সূক্ষ্ম অলঙ্করণ ও টেরাকোটার কারুকাজ বাংলার প্রাচীন শিল্প ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন।
বর্তমানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে পাহাড়পুর এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। শীত মৌসুমে এখানে ভ্রমণকারীর ভিড় থাকে বেশি। শিক্ষার্থী, গবেষক ও ইতিহাসপ্রেমীরা এসে অতীতের সঙ্গে বর্তমানের এক সেতুবন্ধন তৈরি করেন।
সংস্কৃতিবিদদের মতে, পাহাড়পুর মহাবিহার শুধু প্রাচীন ইতিহাস নয়, বরং আমাদের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের প্রতীক। এই স্থান সংরক্ষণ এবং বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করিয়ে দেওয়া বাংলাদেশের দায়িত্ব এবং গৌরব দুটোই।

















