নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিদেশে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে আরও অভিযান হতে পারে
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিদেশে অবস্থানরত হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে আরও হামলা চালানো হতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে জেরুজালেমে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ইঙ্গিত দেন।
গত সপ্তাহে কাতারে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান হামলার প্রসঙ্গ তুলে নেতানিয়াহু বলেন, “হামাস নেতারা যেখানে থাকুক না কেন, তাদের জন্য কোনো নিরাপত্তা বা দায়মুক্তি থাকবে না।” তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি দেশেরই নিজেদের সীমানার বাইরে গিয়ে আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।”
এই হামলার পর আন্তর্জাতিক মহলে কাতারে অভিযানকে ঘিরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের মাটিতে এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে নেতানিয়াহু সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলেন, “আমরাই এই অভিযান করেছি, একেবারেই একা।”
হামলার প্রভাবে কাতারের ওপর আন্তর্জাতিক মনোযোগ বেড়েছে। আরব নেতারা কাতারের প্রতি সংহতি জানাতে শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করছেন। কাতারের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্বৈত মানসিকতা পরিহার করে ইসরায়েলকে শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গাজার সামরিক পরিস্থিতিও উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে। ইসরায়েলি সেনারা গাজা সিটির আবাসিক ভবন ধ্বংস অব্যাহত রেখেছে এবং পশ্চিমাঞ্চলে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেনারা প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দক্ষিণে সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে অনেক বাসিন্দা আশ্রয় ও অর্থের অভাবে নিরাপদ স্থানে যেতে পারছেন না। হাফেজ হাবুস নামের একজন বলেন, “দক্ষিণে যেতে চালকেরা ৩০০ শেকেল ভাড়া চান, কিন্তু আমাদের হাতে খাবারের টাকাও নেই।”
জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, দুর্ভিক্ষপীড়িত এলাকায় আরও বড় হামলা চালানো হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে।



















